Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / ফরিদগঞ্জে আটঘাঁট বেঁধে মাঠে নেমেছেন তোফায়েল আহাম্মেদ ভূঁইয়া
tofayel-ahmed-bhuyan
তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া (ফাইল ছবি)

ফরিদগঞ্জে আটঘাঁট বেঁধে মাঠে নেমেছেন তোফায়েল আহাম্মেদ ভূঁইয়া

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা মো. তোফায়েল আহাম্মেদ ভূঁইয়া এবার ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন।

সাবেক এই ছাত্রনেতা নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে আটঘাঁট বেঁধে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। এরইমধ্যে পুরো উপজেলাতে তার সাঁটানো বিলবোর্ড ব্যানারে চেয়ে গেছে। প্রতিদিন তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে তার প্রার্থীতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন।

কে এই তোফায়েল আহাম্মেদ ভূঁইয়া? রাজনীতিতে কিভাবে শুরু হলো তাঁর পথচলা? উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীই বা হবেন? এসব বিষয়ে তাঁর সাথে চাঁদপুর টাইমসের সাথে কথা হয়।

তিনি চাঁদপুর টাইমসকে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর হাতে খড়ি। ১৯৮৪ সালে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। তখন ৩৭ টি স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয়। বিশেষ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৮৪-৮৫ সালে গঠিত ফরিদগঞ্জ থানা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক। ১৯৮৫ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৬ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এসময় আমি জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলাম।

পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানেও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কিমিটিতে (হিরু-নির্মল কমিটি) তাঁকে সদস্য করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের (হাজী মুকবুল-বাহাউদ্দিন-নাছিম কমিটি) একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা শেষ করে রাজধানীতে ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সাথে সক্রিয় হন।

তাঁর দাবি, দলের প্রয়োজনে নেতৃবৃন্দ যেসময় যেভাবে আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন আমি চেষ্টা করেছি সে অনুসারে দলের কাজ করতে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক থাকার সময় কেন্দ্রীয় সকল নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেছি। নানা কর্মসূচি সফল বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জের রাজপথ কাঁপিয়ে তুলেছি।’

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হবো জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্যে। বিশেষ করে ফরিদগঞ্জের অবহেলিত জনগণ যেনো তাদের কাঙ্গিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যে আমি প্রাণপন চেষ্টা করবো। ফরিদগঞ্জের স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, গভীর নলকূপ স্থাপনসহ সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত বরাদ্ধ সুষম বন্টন করবো। অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে উপজেলা পরিষদকে দুর্নীতি মুক্ত রাখবো। উপজেলা পরিষদ সকলের জন্য উন্মক্ত থাকবে, যেখানে জনগনের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি হেল্পডেক্স থাকবে। অথ্যাৎ স্বল্প সময়ের মধ্যে জনগনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরো বলেন, ‘কথা দিচ্ছি যদি আপনাদের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আপনাদের দেওয়া আমানতের খেয়ানত করবো না। ফরিদগঞ্জবাসীর কাছে আমি দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’

প্রসঙ্গত, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫নং রুপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম গাব্দের গাঁও গ্রামের মৃত. সালামত উল্ল্যাহ ভূঁইয়ার ছেলে মো. তোপায়েল আহাম্মেদ ভূঁইয়া। শিক্ষা জীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে বিএসএস (সম্মান) পাশ করেন।

তিনি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার, সরবরাহকারী ও আমদানিকারক। এছাড়াও তিনি ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালির বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ১৫নং রুপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দের গাঁও মরহুম ছালামত উল্ল্যাহ ভূঁইয়া এতিম খানা ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।

প্রতিবেদক- আতাউর রহমান সোহাগ
২২ জানুয়ারি, ২০১৯

Leave a Reply