চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মধ্যে নওগাঁও ঢালী বাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইটি বসত ঘর পুড়ে দুই ভাইয়ের পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ওই গ্রামের ফারুক ঢালী ও জুয়েল ঢালীর বসত ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোনধরনের সাহায্য সহায়তা না পাওয়ায় বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে জুয়েল ঢালীর বসত ঘরে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও একটি বসতঘরে। এতে দুইটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জুয়েল ঢালী ও ফারুক ঢালী। সম্পর্কে তারা আপন ভাই।
আগুনে কেউ হতাহত না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ২ পরিবারের ১০ সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ্ প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির জন্য ২ বস্তা চাল পাঠান। এছাড়া ওই ওয়ার্ডের মেম্বার মোস্তফা কামাল মিলিটিরির ঘটনার পরপরই আগুন নিভানোর পাশাপাশি তাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক ঢালী বলেন,তিনি একজন ক্ষুদ্র চা বিক্রেতা।ঘটনার সময় তিনি পার্শবর্তী হাজী মার্কেটে নিজের চা দোকানে ছিলেন।অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সাথে সাথে দৌড়ে এসে দেখতে পায় তার ঘরটির চারিদিকে আগুন জ্বলছে।ঘরের ভিতরে প্রবেশ করার মত কোন সুযোগ ছিলনা। এবং কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। নিজেদের পরনের কাপর ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারনা তার। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গত ৫/৬ বছর আগে ঘরটি করেছি। এখনো সেদিন আর টাকা পরিশোধ করতে পারিনি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তার ভাই জুয়েল ঢালী বলেন,সে ঢাকায় ফার্নিচারের কাজ করেন। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তিনি দুপুরের মধ্যে বাড়িতে চলে আসেন। এসে দেখতে পান তার ঘর এবং ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তার পরিবার ও সন্তানদের পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই এই আগুনের হাত থেকে রেহাই পায়নি।তিনিও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘরটি গত তিন চার বছর আগে করেছিলেন। সেদিনের বোঝা এখনো মাথায় নিয়ে কাজ করছেন।দিনের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দিশেহারা তার পরিবার।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মতলব দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) মুমতাহিনা পৃথুলা বলেন, ঘটনাটি শুনে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সমবেদনা বেদনা জানিয়েছেন। তাদের দুটি পরিবারকেই সরকারিভাবে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক,
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur