নানান সমস্যায় জর্জরিত ধানুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানাটি নানান সমস্যায় জর্জরিত।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উক্ত মাদ্রাসাটি ধানুয়া এলাকার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন একটি মাদ্রাসা। যে মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে। এখানে নেই কোন সরকারি অনুদান। শুধুমাত্র উক্ত মাদ্রাসার জমি দাতাদের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর সাহায্যে এই মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এলাকার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন মাদ্রাসা হলেও বর্তমানে এখানে ছাত্রদের কোন প্রকার আবাসিক ভবন না থাকার কারণে এই এলাকার অনেক ছাত্রই ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলো তা হতে পারছে না। পূর্বে এই মাদ্রাসায় অনেক ছাত্র থাকলো সুযোগ সুবিধার অভাবে বর্তমানে ৪০ জন ছাত্র দিয়েই চলছে এই মাদ্রাসার কার্যক্রম। যার মধ্যে রয়েছে ১০ জন এতিম শিশু।
এ ব্যাপারে উক্ত মাদ্রাসার জমিদাতা ও মাদ্রাসার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান বর্তমানে নূরানী ও নাজেরা বিভাগ চালু রয়েছে। হিফজুল কোরআন ছাত্র থাকলো ভবনের অভাবে ক্লাস নিতে পারছে না।
তিনি আরো বলেন আমাদের এই মাদ্রাসা থেকে জেলা পর্যায়ে বেশ কয়েকবার হেফজুল কোরআনের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। উক্ত মাদ্রাসার হাফেজদের মাথায় দেশের খ্যাতিমান আলেম মিজানুর রহমান আজহারী ছাত্রদেরকে পাগড়ী প্রদান করেছেন।
বর্তমানে এই মাদ্রাসার জায়গা রয়েছে কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ভবনের কাজ করতে পারছি না। এখানে দুটি রুমে লেখাপড়া করতে হচ্ছে ছাত্রদেরকে। যার ফলে আমরা সঠিকভাবে তাদেরকে লেখা পড়া করাতে পারছিনা ঠিকমতো।
উক্ত মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মুফতি রফিকুল ইসলাম নোমান বলেন মাদ্রাসাটি নানান সমস্যার জর্জরিত রয়েছে। এখানে এলাকাবাসীর সাহায্য সহযোগিতায় বর্তমানে এই মাদ্রাসাটি পরিচালিত হচ্ছে। আবাসিক ভবনের জন্য মাদ্রাসার নিজস্ব জায়গার উপরে বেশ কিছু পিলার করে রাখা হয়েছে তবে আত্মিক সঙ্কটের জন্য তা আর সম্পূর্ণ হচ্ছে না। তিনি বলেন দেশের সচ্ছল ব্যক্তিগণ যদি আমাদের এই মাদ্রাসাটিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে আমরা আগামীতে এখানে একটি মডেল মাদ্রাসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। এখান থেকে দ্বীন ইসলামের ছাত্র বের হয়ে দেশের করতে পারবে। এছাড়া সরকারিভাবে আমাদেরকে যদি সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে আমাদের এই মাদ্রাসাটির অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
স্টাফ করেসপন্ডেট/
৬ জুলাই ২০২৬