কচুয়ায় ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সিংআড্ডা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বের মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী এক যুবককে শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মহিব উল্লাহ পাটোয়ারীকে নির্দোষ দাবি করে তার স্ত্রী রুমা আক্তার ও স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র শিশুটির দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার ৯ দিন পর কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, (যার নং ১৭)। পরে ১২ অক্টোবর মধ্যরাতে কচুয়া থানা পুলিশ মহিব উল্লাহ পাটোয়ারীকে আটক করে। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন বলে তার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্তের স্ত্রী রুমা, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম, আবু মিয়া, জিলানী, সিংআড্ডা বাজারের দোকানদার সাইফুল ইসলাম, তার চাচাতো ভাই নবীর হোসেন ও হান্নান মিয়া দাবি করেন, গত ৪ অক্টোবর দুপুরে কথিত ঘটনার সময় মহিব উল্লাহ একই গ্রামের মজুমদার বাড়ির শামসুল হক মাস্টারের বাড়িতে গাছপালা কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে কর্মরত থাকায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে তাদের এ বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এবং ঘটনার সময় মহিব উল্লাহর অবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং আগে ঘটে যাওয়া একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে মহিব উল্লাহকে মামলায় জড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তাদের দাবি, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলার সাক্ষী নুরজাহান বেগম ও আমেনা আক্তার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন । অন্যদিকে, মহিব উল্লাহ পাটোয়ারীর স্ত্রী রুমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী নির্দোষ। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে গাছ কাটার কাজে ছিলেন। তাঁকে মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানোয় আমি দুই কন্যাসন্তান নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি। সংসারে উপার্জন করার মতো কেউ না থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। আমি আমার স্বামীকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
প্রকৃত ঘটনা জানতে শিশুটির দাদা আবুল কালাম পাটোয়ারী ও মা কুলসুমা আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁরা সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তারা বলেন, “আমরা মামলা করেছি, থানা পুলিশের মাধ্যমে বুঝব।”
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হোক।
প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
১৭ অক্টোবর ২০২৬