চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অতি দ্রুত সংস্কার কাজ না হলে ঘটে যেতে পারে যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের ভবন রয়েছে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায়। উক্ত ভবনে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষা কার্যক্রম চলা অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে ছাদের সিলিং ভেঙ্গে প্লাস্টার খসে পড়তে দেখা যায়। তবে উক্ত প্লাস্টার পড়ার সময় শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছাত্রী হতাহতের কোন ঘটনা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমাদের ধানুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই ভবনটিতে শ্রেণিকক্ষের অভাবে আমরা পাশের একটি ভবন রয়েছে যেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বাধ্য হয়ে আমরা উক্ত পরিত্যক্ত ভবনটিতেই পাঠদান করে থাকি।
প্রধান শিক্ষক তিনি আরো জানান ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে আমাদের নিজেদেরও যেতে ভয় লাগে। কারণ হিসেবে তিনি জানান আকস্মিকভাবে ছাদের সিলিং ভেঙ্গে পড়তে থাকে।
একদিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা যেমন থাকে আতঙ্কের মধ্যে অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীরাও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। একদিকে আমরা ভয়ে থাকি সিলিং ভেঙ্গে কখন কোন ছাত্র শিক্ষক আহত হয়। কিন্তু বাধ্য হয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবেই উক্ত পরিত্যক্ত ভবনটিতে আমরা ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছি।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক জানান, ২০২০ সালের পর থেকে নতুন ভবন বা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ বা বধিত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরো জানান এই বিদ্যালয়টিতে ৩৬২ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ব্যবহারযোগ্য চারটি শ্রেণি কক্ষ রয়েছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাদের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর ১০ থেকে ১২ বার আবেদন করা হলেও কোন প্রকার বরাদ্দ আসেনি।
সর্বশেষ গত ১৪/৫/২০০২৬ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবর বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আবেদন করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ এবং শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধির জন্য বারবার আবেদন করা হলো শিক্ষা অফিস থেকে কোন প্রকার আশ্বাস বা তদন্ত করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ বাড়ানোর জন্য কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
২০১৪ সালে বিদ্যালয় এর পিছনে একটি বাথরুম করা হলে ও বর্তমানে উক্ত বাথরুমটি ব্যবহার ব্যবহারের অনুপোযোগী হওয়ার কারণে তা বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে রাস্তার পাশে বিদ্যালয়টি হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলাকরে থাকে। এই বিদ্যালয়ের রাস্তার পাশে কোন প্রকার বাউন্ডারি না থাকার কারণে আমদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। কারণ রাস্তা দিয়ে সব সময় যানবাহন চলাচল করে।
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এই বিদ্যালয়টি হওয়ার কারণে আশপাশ থেকে অভিভাবকরাও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এই স্কুলে ভর্তি করতে ভয় পায়।
অতি দ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তর এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার সরজমিন পরিদর্শন করে এই বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করবেন বলে এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
স্টাফ করেসপন্ডেট/ ২১ জুন ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur