Home / আরো / ফিচার / সফল হউক প্রধানমন্ত্রীর মহতী উদ্যোগ

সফল হউক প্রধানমন্ত্রীর মহতী উদ্যোগ

আমি যখন এ লেখাটি লিখছি আমরা তখন প্রায় সবাই ব্যস্ত আসন্ন ঈদ আনন্দকে ঘিরে। অনেকের হয়তো পত্রিকা পড়ার অতটুকু সময়ও হবে না। তবুও লিখলাম যদি কারো দৃষ্টিতে আসে। হিন্দুধর্মে জেনেছি ‘ কংসকে বধিবে যে,গকুলে বাড়িছে সে।’কংস ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মামা এবং তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে কুচক্রীলোক।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কলিযুগের অবতার এবং হিন্দুদের দেবতা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাবের ফলে তৎকলীন সময়ে কুচক্রীলোক কংস মামা ও তার দলবলের হাত থেকে রক্ষা পায় মানুষ ও মানব সভ্যতা। সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি বধিবে যে, প্রধানমন্ত্রী সে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় সংকল্প ও নির্দেশনায় জোড়দার হচ্ছে। পরিচালিত হচ্ছে দুর্নীতি ও ভেজাল বিরোধী অভিযান।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ তিনি দেশের সার্বিক উন্নতির জন্যে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে জোড়ালো করার কার্যকর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জাননে- দুর্নীতির সাথে আপোষ করলে উন্নতির কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এ মহতী উদ্যোগ যেন কোনো ভাবেই ভেস্তে না যায় তার জন্যে আমরা ১৬ কোটি মানুষ পাহাদার হিসেবে ভূমিকা পালন করবো।

যারা এ অভিযান পরিচালনা করবেন তারা যেন নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এটা আমাদের প্রত্যাশা। তাদের কোনো ভুলের কারণে যেন নিরিহ মানুষ হয়রানির স্বীকার না হয়। সেই বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের ভূমিকা যেন কংস মামার মত না হয় সেই বিবেচনা রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

দুর্নীতি হলো একটি দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে ঘরের শত্রু বিভীষণের মতো। দুর্নীতির কারণে একটি দেশের ধনী-গরীব বৈষম্য বৃদ্ধি পায় এবং তা থেকে নানা অপরাধের জন্ম হয়। উন্নয়েনর গতি স্লথ হয়ে পড়ে। দুর্নীতির কারণে আমাদের দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫ হাজার কোটি টাকার ওপর। দুর্নীতি আমাদের দেশে মরণব্যাধি ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে এটা যেন মহামারির রূপ না নেয় তার আগেই নির্মূল করতে হবে। উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল রাখতে এবং ধনী-গরীব বৈষম্য হ্রাস করতে হলে দুর্নীতি রোধের বিকল্প নেই।

আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে চলতে শিখেছি তাকে গতিশীল রাখতে হলে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করতে হবে। তা না হলে উন্নয়নের মহাসড়ক থেকে ছিটকে পরার সম্ভাবনাও আছে। দীর্ঘ সময়ের ও পরিশ্রমের ফসল নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশের যে স্বীকৃতি, অর্জন তা মুষ্টিমেয় কিছু দুর্নীতিবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্থদের কাছে ধরাশায়ী না হয় সে দিকে সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

দুর্নীতির কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেই সাথে আত্মহত্যার প্রবণতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই দুর্নীতি বিরোধী কঠোর অভিযান সময়োপযোগী বাস্তব পদক্ষেপ। অভিযানে চুনোপুটিদের ধরতে গিয়ে যেন দুর্নীতির মহারথি রাগব বোয়ালরা ফঁসকে না যায় সেখানে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

অভিযানের কিছু কিছু কার্যক্রম দেখলে মনে হয় সকল অপরাধের হোতা সামাজিক মর্যাদাহীন আমাদের শিক্ষকরা। যা খুবই দু:খজনক এবং সমগ্র জাতির জন্য অপমানজনকও বটে। যদি এরকম চলতে থাকে তবে এ অভিযান খুব সহসাই মুখ থুবরে পড়বে এবং হাস্যরসে পরিণত হবে। দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে সফল করতে হলে রাগব বোয়ালদের থেকে শুরু করতে হবে ।

প্রতিটি অধিদপ্তর,পরিদপ্তর,ক্রীড়া ফেডারেশন, জেলা-উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে অভিযানের আওতায় এনে দ্রুত সময়ের মধ্যে জোড়ালো ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যাতে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে গর্বের সাথে বলতে পারি আমরা দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ।

কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যকর করতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামীন ও আপীল অযোগ্য করতে হবে। তার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কট করতে হবে এবং তাদের সাথে কোনরূপ আত্মীয়তা করা যাবে না। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াকে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। জনগণের সচেতনতা ও রাজনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়।

সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবসম্মত দুর্নীতি বিরোধী নাটিকা,গান এবং লিফলেট নিয়মিত প্রচার করতে হবে। দুর্নীতিবাজরা কিন্তু সংখ্যায় খুব বেশি নয়। আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে দুর্নীতিবাজদের পরাজয় নিশ্চিত। দুর্নীতিবাজ যেই হউক তাকে অবশ্যই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। কিছু মানুষের অনৈতিক উচ্চ বিলাসীতার কারণে দেশের সার্বিক মানুষের অসহনীয় দুঃখ-কষ্ট কোনো ভাবেই কাম্য নয়।

দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে সফল করতে হলে কংস মামাদের একটি তালিকা স্বচ্ছতার সাথে তৈরি করে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অনেকটাই সহজ হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেনদেনগুলোকে নজরদারিতে নিয়ে আসতে হবে। এ প্রতিষ্ঠানেরগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা অনেকটাই সহজ হবে।

এ বলে খ্যাতি হউক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরই লোক। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি ও ভেজাল বিরোধী অভিযান এ মহতি উদ্যোগটি সফল হবে এবং বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এ প্রত্যাশা করছি সকলেই।

আসুন আমরা সকলেই দুর্নীতিকে না বলি। শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। দুর্নীতি কোনো নীতি না এ নীতি মানি না। দুর্নীতি করব না,দুর্নীতি সইব না। দুর্নীতির উদ্যোগেই দেশের সর্বত্র বিলি করতে হবে। জনবহুল স্থানগুলোতে হটলাইন নম্বরটি শাঁটিয়ে দিতে হবে। নাম্বারটি বিজ্ঞাপন আকারে প্রতিটি মিডিয়াতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করতে হবে। যেখানেই দেখি দুর্নীতি সাথে সাথেই ১০৬ নাম্বারে ফোন করি।

লেখক পরিচিতি: সুধীর বরণ মাঝি,শিক্ষক,হাইমচর মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর ।