Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / কচুয়া উত্তরাঞ্চলে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, হুমকিতে জমি ও ঘরবাড়ি
ড্রেজারে

কচুয়া উত্তরাঞ্চলে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, হুমকিতে জমি ও ঘরবাড়ি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে খাল ও কৃষি জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের উৎসব চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একশ্রেণীর অসাধু চক্র ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মীকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ও রমরমা বালুর ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রশাসনকে বৃদ্ধাক্সগুলি দেখিয়ে চালানো এই অপকর্মের কারণে এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

যেসব এলাকায় ড্রেজার আতঙ্ক: অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার উত্তরাঞ্চলের একাধিক পয়েন্টে দিন-রাত সমানতালে চলছে এই বালি উত্তোলন। যেসব এলাকায় অবৈধ ড্রেজারের থাবা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে, তা হলো: পালাখাল, ভুঁইয়ারা, বক্সগঞ্জ, মাঝিগাছা, শিলাস্থান, যুগিছাপর, দোয়াটি, সাচার, রাগদৈল, দুর্গাপুর, জয়নগর ও বারৈয়ারা। বর্ষা মৌসুমে পানির গভীরতা বেশি থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব এলাকায় নির্বিচারে বালি তোলা হচ্ছে। ফলে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনজীবন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় ভূমির ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশের ফসলি জমিগুলো ভেঙে ড্রেজারের গর্তে তলিয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে কৃষকদের জীবিকায় বড় ধাক্কা দেবে। ড্রেজারের শব্দে ও পাইপলাইনের কারণে স্বাভাবিক চলাচল এবং পরিবেশের ওপর চরম ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

প্রশাসনের বক্তব্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু নাছির জানান- “অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেখানেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা খবর পাবো, সেখানেই তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অপকর্মের সাথে যুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু লোকদেখানো সাময়িক অভিযান নয়-প্রশাসনের উচিত নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়ে এই অসাধু চক্রকে চিরতরে সমূলে উৎপাটন করা এবং ঐতিহ্যবাহী ফসলি জমি ও নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষা করা।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু/
২ আগস্ট ২০২৬