Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / ফরিদগঞ্জে ইসলামিক মিশন হাসপাতালে সংস্কারে অনিয়ম, বিক্ষুব্ধ জনতা দেয়াল ভাঙচুর!
ইসলামিক

ফরিদগঞ্জে ইসলামিক মিশন হাসপাতালে সংস্কারে অনিয়ম, বিক্ষুব্ধ জনতা দেয়াল ভাঙচুর!

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ইসলামিক মিশন হাসপাতালের ভবনের সংস্কার ও বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে ইট, বালি ও রডে জালিয়াতির প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এমনকি ক্ষোভের মুখে নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে কাজের এ বেহাল দশা ও অসন্তোষের চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, সোহরাব বেপারী, মোশারফ কাজী, বাদশা মজুমদার ও ওমর ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদার অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালি, সিমেন্ট এবং দুর্বল রড ব্যবহার করে আসছিলেন। স্থানীয়রা বারবার প্রতিবাদ জানালেও তা কানে তোলেননি ঠিকাদার। উল্টো নিজ খেয়ালখুশিমতো অনিয়ম বজায় রেখে তড়িঘড়ি করে বাউন্ডারি দেয়াল ও সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষপর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে বিক্ষুব্ধ জনতা নির্মাণাধীন দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে এবং সিডিউল মেনে মানসম্মত কাজের দাবি জানায়।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘নাজমুশ কনস্ট্রাকশন’-এর পরিচালক মো. ইমন জানান, ২৫ লাখ টাকার এই সংস্কার কাজে অতিরিক্ত দরপত্রের (লেস) মাধ্যমে লাভজনক থাকা কঠিন। এর ওপর কাজ শুরু করার পর থেকেই একশ্রেণির প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে।”

তবে চাঁদাবাজদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি। কাজের গুণগত মান সঠিক আছে দাবি করে তিনি বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোতেই পরিকল্পিতভাবে নির্মাণাধীন দেয়ালটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

শাহসূফী ইয়াসিনিয়া মজিদিয়া ট্রাস্টের সদস্য আবুল খায়ের জানান, কাজের গুণগত মান ঠিকই রয়েছে, কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি চাঁদার জন্য কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা পল্লী চিকিৎসক ফজলুর রহমান মালামাল সরবরাহ (সাপ্লাই) করার অজুহাতে কিছু লোকজনকে সাথে নিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যা-ই ঘটুক কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় রাখতেই হবে।

ইসলামিক মিশন হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. কামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তদারকি করে কাজের মান স্বাভাবিক পেয়েছি। তবে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় আমি ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমার নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি ছুটির দিনেই কাজ চালিয়ে গেছে। ফলে এই দুই দিনের কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ থেকে যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী জানান, সরকারি কাজে কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সরেজমিন তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান/
১ আগস্ট ২০২৬