প্রসবজনিত ফিস্টুলা একটি স্পর্শকাতর নারী স্বাস্থ্য সমস্যা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রসবজনিত ফিস্টুলার সংখ্যা কমলেও এখনো দেশ সম্পূর্ণভাবে ফিস্টুলামুক্ত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল ও সকল মহিলাজনিত ফিস্টুলা রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।
১২ মে মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগী সনাক্তকরণ ক্যাম্পেইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ নুর আলম দীন । এছাড়াও হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহমেদ তানভীর হাসান, সারভেইল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডাঃ মালিহা, সিআইপিআরবি’র প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর আলতাফুর রহমানসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর কারিগরি সহযোগিতায় এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
ফিস্টুলামুক্ত জেলা ঘোষণার লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইন হাজীগঞ্জ উপজেলায় প্রথমে শুরু করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৫দিন ব্যাপী হাজীগঞ্জ উপজেলায় প্রসবজনিত ফিস্টুলা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং কমিউনিটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগীর তথ্য সংগ্রহ করবেন। সাসপেক্টেড রোগীদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াগনোসিস করা হবে। এছাড়া, উন্নত চিকিৎসার জন্য সকল রোগীদেরকে ঢাকা মেকিকেল কলেজ হাসপাতালের ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে রেফার করা হবে এবং সেখানে যাতায়াত খরচ সহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। চিকিৎসা শেষে দরিদ্র রোগীদেরকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হবে। বিনামূল্যে সেবার জন্য ০১৭১২২৩৮৪৯৭ নাম্বারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিস্টুলা রোগী চেনার সহজ উপায়: প্রসবের রাস্তা দিয়ে সব সময় প্রস্রাব বা পায়খানা অথবা উভয়ই ঝরতে থাকবে। সমস্যা শুরু হবে বিলম্বিত প্রসবের পর অথবা তলপেট বা জরায়ুতে অপারেশনের পর।
স্টাফ করেসপন্ডেট/ ১৩ মে ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur