সংবাদের পর কচুয়ায় নতুন ঘর পেল অন্ধ নারী ফুলবানু
চাঁদপুরের কচুয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নতুন ঘর পেতে যাচ্ছেন দক্ষিণ শাসনপাড়া গ্রামের অন্ধ নারী ফুলবানু বেগম। বৃদ্ধ মা ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা ঘরে বসবাস করছিলেন তিনি। তাঁর দুরবস্থা তুলে ধরে চাঁদপুর টাইমসসহ স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে কচুয়ার গুলবাহার গ্রামের বাসিন্দা, জীবন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের কর্ণধার, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক ফয়সাল চৌধুরী জীবনের।
পরে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ফুলবানুর পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন চকচকা রঙিন টিনের ঘর।
জানা যায়, কচুয়া উপজেলার দক্ষিণ শাসনপাড়া গ্রামের নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ফুলবানু বেগম একজন অন্ধ নারী। বৃদ্ধ মা ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তাঁরা। বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঘরটি নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। এ অবস্থায় ফুলবানু বেগমের দুর্দশা ও একটি নিরাপদ ঘর পাওয়ার আকুতি তুলে ধরে কয়েক মাস আগে স্থানীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি নজরে আসার পর অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন সমাজসেবক ও দানবীর ফয়সাল চৌধুরী জীবন। তাঁর পরিচালিত জীবন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে দুই চালাবিশিষ্ট নতুন টিনের ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।
গত বুধবার থেকে ঘরটির নির্মাণকাজ শুরু করেন জীবন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. সোলেমান জুনু। মঙ্গলবার দুপুরে নির্মাণাধীন ঘরটির কাজ দেখতে গেলে ফুলবানু বেগমকে আনন্দে আত্মহারা হতে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর নিজের পরিবারের জন্য একটি নতুন ও নিরাপদ আশ্রয় গড়ে উঠতে দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় ফুলবানু বেগম জীবন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ফয়সাল চৌধুরী জীবনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দু’হাত তুলে তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং এই মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয়দের মতে, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবানদের নৈতিক দায়িত্ব। ফুলবানু বেগমের মতো একজন অসহায় অন্ধ নারীর পরিবারের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার উদ্যোগ মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অসহায় পরিবারটির দুর্দশা তুলে ধরা এবং পরবর্তী সময়ে একজন সমাজসেবকের এগিয়ে আসার ঘটনায় এলাকায় ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ঘরটি নির্মাণ স¤পন্ন হলে ফুলবানু বেগম, তাঁর বৃদ্ধ মা ও সন্তানের দীর্ঘদিনের নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। অসহায় মানুষের মুখে হাঁসি ফোটানোর এমন উদ্যোগ সমাজের অন্য বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে-এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
১৩ অক্টোবর ২০২৬