Home / চাঁদপুর / রোগীদের বেডের পাশে নেই টেবিল ও ময়লা ফেলার পাত্র, স্টোর রুমেই তৈজসপত্র
রোগীদের

রোগীদের বেডের পাশে নেই টেবিল ও ময়লা ফেলার পাত্র, স্টোর রুমেই তৈজসপত্র

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি হওয়া রোগীদের বেডের পাশে সরকারের দেয়া টেবিল ও ময়লা ফেলার পাত্রসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।

এক সময় জেলার এ হাসপাতালটিতে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে আসা রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হলে ময়লা আর্বজনা ফেলার জন্য তাদের বেডের নিচে পাত্র দেয়া হতো। একই সাথে রোগীদের স্বজনরা হাসপাতালে রোগীদের দেখতে আসলে তাদেরকে বসার জন্য প্রত্যেক বেডের পাশে একটি করে টেবিল দেয়া হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের এসব জিনিসপত্র না দিয়ে তাদের সাথে অনেক অনিয়ম করা হচ্ছে।

প্রায়ই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের কাছে অভিযোগ পাওয়া যায়, যে তারা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে তাদেরকে বল, টেবিল, বালিশ, চাদরসহ অন্যান্য ব্যবহৃত সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না।

অনেকেই হাসপাতাল থেকে এসব জিনিসপত্র না পেয়ে টাকা দিয়ে বাহিরে থেকে এসব ব্যবহার্য জিনিসপত্র কিনে এনে হাসপাতালে ব্যবহার করে থাকেন।

এদিকে খবর নিয়ে জানা গেছে হাসপাতালের স্টোররুমে বহু পাত্র, ময়লা রাখার বালতি, টেবিল, বালিশ, চাদর জমা রয়েছে। কিন্তু এসব জিনিসপত্র হাসপাতালের স্টোর রুমে জমা থাকার পরেও রোগীরা এর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ এ হাসপাতালটি থেকে তাদেরকে তেমন কোন ঔষধ ও ব্যান্ডিজের কাজে ব্যবহৃত গজ/মার্কিন কাপড় বাহিরে থেকে ক্রয় করে আনতে হয়।

গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের ২য় তলার পুরুষ ওয়ার্ড, ৩য় তলার শিশু ওয়ার্ড, পেইং ও কেবিন ব্লক, এবং ৪র্থ তলার মহিলা ওয়ার্ডের অধিকাংশ ভর্তি রোগীদের বেডের নিচে ময়লা ফেলার তেমন কোন পাত্র, এবং রোগীর স্বজনরা বসার জন্য কোন টেবিল নেই। অনেক রোগীর স্বজনরা রোগীকে দেখতে এসে দাঁড়িয়ে কিংবা রোগীর পাশে বিছানায় জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী, ময়লা ফেলার পাত্র, টেবিল ,বালিশ, চাদর পাইনি বলে অভিযোগ করেন।

এদের মধ্যে হানারচর এলাকার রহিম মিয়া, মুন্নি বেগম, মধুরোডের লিপি বেগম, সফিউল্লাহ, কল্যানপুর এলাকার খাদিজা বেগম, শাহাতলীর শহীদ বেপারী, চান্দ্রার হারুন মোল্লা, রঘুনাথপুর গ্রামের ফাতেমা বেগম, বালিয়ার ফিরোজা বেগম, কুমার ডুগীর আছিয়া বেগম ও কাজীর বাজারের পারুল বেগমসহ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, তারা গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, কিন্তু তাদের বেডের পাশে বসার জন্য কোন টেবিল এবং ময়লা ফেলার জন্য কোন পাত্র দেয়া হয়নি।

পাত্র না পেয়ে অনেকেই বেডের নিচে অথবা পলিথিন মুড়িয়ে ময়লা রাখেন। এতে কারে হাসপাতালের পরিবেশ দুষণ হয়।
এছাড়া রোগীর পাশে ময়লা আবর্জনা জমে থাকে তখন যদি কোন আয়াকে ময়লা ফেলার কথা বলা হয় তখন তারা তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। কয়েকবার বলার পর তারপর তারা সে ময়লা ফেলার জন্য যান।

এব্যাপারে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক’জন নার্স ইনচার্জ জানান, প্রত্যেক রোগীদের বেডের পাশেই টেবিল এবং ময়লা ফেলার পাত্র দেয়া হয়। যখন হাসপাতালে একাধিক রোগী ভর্তি হয়, তখন দেখা যায়,আলাদা বিছানা পাতার কারনে তাদেরকে তা দেয়া সম্ভব হয়নি। আর ধোপার সমস্যার কারনে রোগীদের মাঝে ঠিকমতো চাদর দেয়া সম্ভব হয়নি।
বসার টেবিল এবং বালিশের প্রসঙ্গে ওয়ার্ড ইনচার্জরা বলেন আমরা হাসপাতাল থেকে যদি টেবিল বা বালিশ দেই তাহলে দেখা যায় অনেক রোগী সেগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। এ কারনে আমরা সবাইকে তা দেইনি যখন কোন রোগীর লোক আমাদের কাছে টেবিল, বল , বা বালিশ চায় তাহলে আমরা তাদেরকে দেই।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার এ কে মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে রোগী বেশি থাকলে তা রাখার জায়গা হয়না। তাই সব সময় তা দেয়া সম্ভব হয়নি।

এছাড়া এসব টেবিল বা পাত্র দিলে রোগীরা তা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেনা। দেখা যায় অনেক রোগীরা ওয়ার্ডে পানি ফেলে নোংরা করে ফেলেন। এ কারনে হাসপাতাল পরিস্কার পরিছন্নতার জন্যও আমরা তা দেইনি।

প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২