ময়লার ভাগাড়ে পরিণত সাচার উত্তর বাজার এলাকা, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার উত্তর বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে স্থানটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের পাশে ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সেখানে ময়লা ফেলছেন বলে দাবি করেছেন। তবে এর ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপের পাশেই একটি খালে সরকারি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। ময়লা-আবর্জনা থেকে নির্গত বর্জ্য ও দুর্গন্ধের কারণে খালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এ সড়ক দিয়ে রাগদৈল, রাজারামপুর, ইলিটগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরাও বাজারে আসেন। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সাচার উত্তর বাজারের আশপাশে অবস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে। দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তাদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাচার উত্তর বাজার দাস বাড়ী দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল দাশ ও সাধারণ সম্পাদক দ্বীপক দাশ জানান, যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে এর পাশে একটা মন্দির ও ২টা ঘাটলা আছে। এই ঘাটলা দিয়ে প্রায় ১ হাজার লোক গড়ে প্রতিদিন পানি ব্যবহার করে। আমরা দাস বাড়ীর সকলে অনুরোধ করছি উপজেলা প্রশাসন যেন জনস্বার্থে বিষয়টা সুষ্ঠ সমাধান করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ময়লার দুর্গন্ধের কারণে অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি মাছি-মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ডায়রিয়া, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত ময়লা অপসারণ, নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,

১৯ জুন ২০২৬