বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার সংবর্ধনায় অনুপ্রাণিত পুরান বাজারের শিক্ষার্থীরা
চাঁদপুর জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরান বাজার মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছে বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ জোগাতেই সংগঠনটির উদ্যোগে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। এ বছর পুরান বাজার মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জন শিক্ষার্থী গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। কৃতি শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্য উদযাপন ও তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট তুলে দেন ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইশতিয়াক খান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহীন সুলতানা-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ছিল ভিন্নমাত্রার আয়োজনও। কৃতি শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করাতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইশতিয়াক খান নিজ হাতে তৈরি করেন বিশেষ একটি কেক। উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন-এর সাবলীল ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ জাকির হোসেন খান সিপন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আশিক খান, দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিজয়ীর উপদেষ্টা সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী; দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার চিফ রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুল রহমান লাবু, সিনিয়র শিক্ষক দুলাল রায়, বিশ্বজিৎ চন্দ, দিলীপ কুমার দেবনাথ এবং সহকারী শিক্ষক শিপন শেখসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের যথাযথ স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। কৃতি শিক্ষার্থীদের এই অর্জন শুধু তাদের পরিবার ও বিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যও গর্বের। তারা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বক্তারা ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’র এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, তাদের সাফল্যকে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করার মতো উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রতি উৎসাহ ও সম্মান দেখানোর এই আয়োজন প্রশংসার দাবিদার।
উল্লেখ্য: বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির এমন উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবর্ধনা ও সম্মাননা পেয়ে কৃতি শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা বলেন, নিজেদের অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে এমন আয়োজন তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে তারা ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
৭ অক্টোবর ২০২৬