বাকিলা যুবধারা সমিতি মাঠে ফিরে আসতে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা

চাঁদপুর জেলার অন্যতম হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন বাকিলা যুবধারা সমবায় সমিতি নতুন ভাবে মাঠে ফিরে আসতে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিষ্ঠানের এমডি জুলহাস মিয়া। ৫ আগস্ট বুধবার হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবধারা সমবায় সমিতি ফিরে আসতে চায় বলে তাদের নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। লিখিত বিবৃতিতে উঠে আসে যুবধারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিচালনা কমিটির ৩ জন আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তারা হলেন মরহুম এম.এ নাফের শাহ্, মরহুম খোরশেদ আলম (দুলাল মাস্টার) ও শাহাজাহন মাস্টার। যে কারনে প্রতিষ্ঠানটি একা পরিচালনা করা জটিল হয়ে পড়েছে।

প্রিয় যুবধারার সদস্যগণ, আপনারা জানেন যে ২০০৪ সাল থেকে যুবধারা নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেলাই, মৎস, গবাদি পশু, হাঁস ও মুরগি, চাষাবাদ ও প্রশিক্ষণ শুরু করেন। পরবর্তীতে উপজেলা সমবায় অফিস থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যকম শুরু করেন এরপর থেকে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছি এবং সরকারী ও বেসরকারী ভাবে বিভিন্ন পুরস্কার গ্রহণ করে। এর ধারাবাহীকতা দীর্ঘদিন পথ চলার মধ্যে ২০২৩ সালে কিছু অসাধু কর্মকতা ও কর্মচারী বাকিলা অফিস এর কর্মকতারা সদস্যদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে অফিসে জমা না দিয়ে আওত্তসাৎ করে পরবর্তীতে প্রতিষ্টান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই খবর গ্রাহক/সদস্যদের মাঝে ছড়িয়ে পরলে সদস্যরা টাকা উত্তোলনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এতে কালেকশন কমে জায় অনেক কিস্তির টাকা বন্ধ করে দেয়।

গ্রাহকের সঞ্চয় টাকা ও অন্যান্য টাকা ফেরত দিতে প্রতিষ্ঠানের বেগ পেতে হয়। এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে না উঠতে আবার ৫ আগস্ট ২০২৪ইং সালে সরকার পতন হওয়ার পর আরো উত্তোলন বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সদস্যরা সম্পূর্ণ কিস্তিদেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর পর প্রতিষ্ঠান আরো ঝুকির মধ্যে পড়ে। এতে পরিচালক গণ তাদের ব্যক্তিগত তবিল থেকে প্রতিষ্ঠানকে টাকা প্রদান করেন। তাতেও ঝুকি না কমে আরো বহুগুন বেড়ে যায়। তার পর আমি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া উপক্রম দেখে আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ও আমার নিজ বাড়ি দিয়ে ব্যাক ব্যাংকে বন্ধক রেখে ২ কোটি টাকা লোন উত্তোলন করি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করি এবং সদস্যদের উত্তোলন দিতে থাকি। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু চক্রান্ত কারি প্রতি হিংসাপ্রনিত হয়ে প্রতিষ্ঠানকে ধংস করার লক্ষে এবং আমাকে নিঃশেষ করার জন্য চক্রান্ত কারিরা একদল লোক হঠাৎ করে এসে অফিস ভাংচুর করে কম্পিউটার সহ ও মালামাল নিয়ে যায় এবং আমার কর্মকতাদেরকে মারধর করে। তারপর আমি কোন কিছু উপায় না পেয়ে উপজেলা ও জেলা কর্মকতাদের অব্যহিত করি এবং ৯৯৯ ফোন দেই পরের দিন পরিচালক সহ আমরা অফিস কর্মকতাদের কে নিয়ে এসব বিষয় নিয়ে মিটিং করি। এর ২/৩ দিন পরে কিছু স্থানীয় পত্রিকায় আসে যুবধারা ও জুলহাস মিয়া পালিয়ে গেছে এই কথা যানাযানি হইলে সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে এবং পরের দিন সদস্যরা এসে অফিসে ভাংচুর করে এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এরপর থেকে আমরা আর অফিস খুলতে পারি নাই। এতে সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যুবধারা ছিল, যুবধারা আছে, যুবধারা থাকবে। সদস্যদের টাকার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের টাকা অনেক গুণ বেশি ফিল্ডে আছে। এখন আমরা সদস্যদের ও সকলের সহযোগিতা পেলে অফিস খুলে টাকা কালেকশন করে সদস্যদের কে উত্তোলন প্রদান করা হবে। আপনাদের সহযোগিতা আমারদের একান্ত কাম্য আপনারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন ইনশাল্লাহ্।

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. খালেকুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু মাহমুদের পরিচালনা উক্ত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী ও প্রেসক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়/
৫ আগস্ট ২০২৬