মতলবে ১১ মাস ধরে ধর্মীয় শিক্ষক লাপাত্তা হয়েও বেতন উত্তোলন

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দগরপুর আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক বিকাশ প্রধানিয়া ১১ মাস ধরে লাপাত্তা হয়েও এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেতন নিয়মিত বেতন উত্তোলন করার খবর পাওয়া গেছে।

একটি সরকারি বিদ্যালয়ের একজন ধর্মীয় শিক্ষকের এমন অনিয়মের বিষয়ে তথ্য এবং বক্তব্য নিতে গেলে রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপটে সংবাদ কর্মীদের সাথে উত্তেজিত হয়ে অসদাচরণ করলেন উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজাহান। এমন অনিয়মের বিষয়ে তার কাছে বক্তব্য নেয়ার কথা শুনেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো সাংবাদিকদের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ঘটনার সম্পর্কে কোন কিছু না বলেই তিনি তার রাজনৈতিক পদবীর পরিচয়ে সংবাদকর্মীদের ছবি তুলে বিভিন্ন হুমকি স্বরূপ কথা বার্তা বলেন। যার সম্পর্ণ গোপন ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে রয়েছে।

২৭ নভেম্বর রোববার দুপুরে মতলব দগরপুর আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহানের রুমে এই ঘটনা ঘটে।

খবর নিয়ে জানা যায়, মতলব পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দগরপুর আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক বিকাশ প্রধানীয়া চলতি বছরের ৪ জানুয়ারির পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত।

ঘটনাটি জানার জন্য কয়েক দিন পূর্বে সাংবাদিকরা উক্ত বিদ্যালয়ে যান। সে সময় প্রধান শিক্ষক শাজাহান জানান, ধর্মীয় শিক্ষক বিকাশ প্রধানীয়া সর্বশেষ ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে এসেছেন ও জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বেতন উত্তলন করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধান করে দেখা যায় শিক্ষক বিকাশ প্রধানীয়া এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেতন উত্তলন করেছেন।

বিষয়টি আরো ভালো ভাবে জানার জন্য আজ চাঁদপুর থেকে সংবাদকর্মীরা বিদ্যালয়ে গেলে, এসময় সাংবাদিকরা কিছু বলার পূর্বেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সহকারী শিক্ষককে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে ও ভিডিও ধারণ করে রাখতে বলেন এবং সাদা কাগজে সাংবাদিকদের স্বাক্ষর রাখতে বলে। এসময় প্রধান শিক্ষক ছাড়াও আইটি সহকারী শিক্ষক সাংবাদিকদের সাথে চরম অসদাচরণ করেন। তাদের এমন আচরনে মনে হয়েছে তথ্য জানতে চাওয়াটাই যেনো সংবাদকর্মীদের অনেক বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান শিক্ষক শাহ জাহান বলেন,আমি এই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আপনারা কিছু জানার থাকলে আমাদের অফিসের লোক সাথে নিয়ে আসবেন। আমাদের স্কুলের সভাপতির নিষেধ কোন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে আসতে পারবে না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জহির সরকারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, পিছন থেকে অনেকে অনেক বলে থাকে। আমি কেনো সাংবাদিকদের বিদ্যালয়ে যেতে নিষেধ করবো।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলী রেজা বলেন, আমি নিজে বিষয়টি দেখবো। কেন প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের সাথে এমন খারাপ আচরন করেছেন। আমি কাল স্বশরীরে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের বিষয়টি জানবো এবং আপনাদের সাথে খারাপ আচরণের বিষয়টিও জানবো।

প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি, ২৭ নভেম্বর ২০২২

Share