জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চাঁদপুরে শিবিরের ‘বিজয়ের দৌড়’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে ‘বিজয়ের দৌড়’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ দৌড় প্রতিযোগিতায় কলেজ শিবিরসহ বিভিন্ন শাখার প্রায় ৫০০ প্রতিযোগী অংশ নেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে এসে দৌড় শেষ হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

এর আগে চাঁদপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের হলরুমে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।

বক্তব্যে তিনি ৪ আগস্টের বিভিন্ন ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, সারাদেশে আমরা যে চিত্র দেখেছি, তা অবশ্যই পরিকল্পিত। যাতে মানুষের মন থেকে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে যায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই অপকর্মগুলো তারাই করেছে, যারা এ দেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় মেনে নিতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, অনেক প্রাণের বিনিময়ে, ত্যাগ, জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় ‘কোটা না মেধা’, ‘আজাদি না গোলামি’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা’—এ ধরনের স্লোগান উচ্চারিত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, এই সরকার আসার পর মেধা না কোটা—এটি তারা ভুলে গেছে। এখন তারা নিজস্ব কোটায় লোকজনকে পদায়ন করছেন। মেধাকে তারা ভুলে গেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে জাতি মেধার কদর ও মূল্যায়ন করবে না, সে জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারবে না।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ শিবির সভাপতি আজমীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন শহর শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম।

‘বিজয়ের দৌড়’ প্রতিযোগিতা শেষে কলেজ ক্যাম্পাসে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

প্রতিবেদক:মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া,
৫ আগস্ট ২০২৬