ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি, শিক্ষা কার্যক্রম, রমজান ও নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি চূড়ান্ত করতে আরও কাজ করতে হচ্ছে কমিশনকে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আগামী বছরের ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে সবাই একমত হয়েছেন। তবে ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
Google News গুগল নিউজে ভোরের কাগজের খবর পড়তে ফলো করুন
সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় থাকলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্তও সীমিত সময় পাওয়া যাবে।
তিনি জানান, নির্বাচনের বাজেট পরিকল্পনা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ আরও কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে হবে। এসব বিষয় সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
বৈঠকে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। এ সময় শিক্ষকরা পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকবেন। পাশাপাশি বন্যার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে যে প্রভাব পড়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করলে পরীক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতির বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এর আগে ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে আয়োজনের কথা ছিল।
তবে এসব তারিখ চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছিল ইসি। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত ও প্রস্তুতির তথ্য বিবেচনা করে সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা ছিল।
সানাউল্লাহও জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে ইসি সরে আসেনি। সেটি ছিল সম্ভাব্য ও প্রাক্প্রস্তুতিমূলক সময়সূচি। বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে কমিশন পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এই উপনির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী সেখানে দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময়ে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur