মতলবের আলোচিত আদিবা হ/ত্যা/র বিচার প্রার্থী হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের পাচদোনা গ্রামের আলোচিত ৮ বছর বয়সী আদিবা হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই পরিবার।হত্যাকারীদের উল্টো মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ আদিবার মা শামিমা আক্তারের।
গত ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি পাঁচদোনা গ্রামের সৌদী প্রবাসী মো.আলাউদ্দিন বেপারীর কন্যা আদিবা ইসলাম (৮) নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় একই গ্রামের আজিজ প্রধানীয়া বাড়ীর পুকুরের পশ্চিম উত্তর পাড়ে বাঁশঝাড়ের নীচে পরিত্যক্ত স্থান থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আদিবার মা সামীমা আক্তার বাদী হয়ে প্রথমে একই গ্রামের ইমন (২১),পিতা মজিবুর রহমান এবং মো.ইয়াসিন (২২),পিতা লিটন সরকারকে আসামী করে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদিবা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে আদিবা ও চাচাতো বোন তাসপিয়া (৭) বাড়ীর পার্শ্বে রাস্তায় খেলা করছিল। ওই মুহুর্তে ফুল দেয়ার কথা বলে ইমন ও ইয়াসিন ডেকে একটি সিএনজিতে নিয়ে যায়। বিষয়টি তাপসিয়া গিয়ে আদিবার মাকে জানায়। আদিবার মা সামীমা আক্তার মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে ইমন ও ইয়াসিনকে জিজ্ঞেস করলে তারা অস্বীকার করে। উপায়ন্তর না পেয়ে আদিবার মা তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওইদিন রাতেই ইমাম ও ইয়াসিনকে গ্রেফতার করে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। আটককৃতদের দেয়া তথ্য মোতাবেক ঘটনার ৪ দিন পর আদিবার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আটককৃত আসামী ইমন ও ইয়াসিনের দেয়া স্বীকারোক্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত আরো ২ জনের নাম বেরিয়ে আসে।তারা হলেন আব্দুল আউয়াল (৫৯), পিতা আদম আলী এবং শুক্কুর আলী (৬৩), পিতা আন্দুস সামাদ।তাদের মধ্যে আব্দুল আউয়ালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।অপরজন পলাতক রয়েছে।
বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামী ইমন জেলহাজতে থাকলেও অন্য ২ জন জামিনে বেরিয়ে আসে।
আদিবার মা সামীমা আক্তার জানান, আমাদের সাথে শুক্কুর আলী প্রধানীয়া (সাবেক মেম্বার) পূর্ব শত্রুতা বশত ভাড়াটিয়া হিসেবে মামলার আসামীদের দিয়ে পরিকল্পিতভানে আমার মেয়ে আদিবাকে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রাখে।
বর্তমানে মামলার পলাতক আসামী শুক্কুর আলী প্রধান এবং জামিনে বেরিয়ে আসা ইয়াসিন ও আউয়াল আমাকে, আমার পরিবার পরিজন এবং আদিবার সহপাঠী তাসপিয়াকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। তারা বলে জেল যেহেতু খেটেছি, প্রয়োজনে আরও কয়েকটাকে খুন করে জেল খাটবো। তাই আমরা সবাই এখন নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে বসবাস করতেছি। এছাড়া আমাদেরকে ঘরছাড়া ও বাড়ীছাড়া করার জন্য তাদের ঘরে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে নাকি নিজেরাই ঘটিয়েছে সে ঘটনায় আদিবার ভাই মঈন আহম্মেদ (১৫) এবং তার দাদা সুরুজ মিয়া (৬৫),আব্দুল হক( ৬০), এনামুল হক(৫৬), সুরুজ ঢালীর নামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছে।
হত্যা মামলাটি দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্র মুলকভাবে মামলাটি করেছে।তাদের এ মামলা চাঁদপুরের ডিবি পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত করে আসামীদের কোন সম্পৃক্ততা পায়নি বলে রিপোর্ট দাখিল করে। তাদের পক্ষে রিপোর্ট না দেয়ায় ওই মামলাটি পূণরায় সিআইডির তদন্তের জন্য আবেদন করে।
আদিবার মা আরো জানান, নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আদিবা হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে
এ হত্যা মামলার তদন্তপূর্বক চার্জশিট দাখিল করেছেন। তাই আমরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট জোরালো দাবী জানাচ্ছি আমাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি যেন পলাতক আসামী শুক্কুর আলীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।
প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক/
২৮ জুন ২০২৬