Home / আন্তর্জাতিক / আজ আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস
শকুন সচেতনতা

আজ আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস

শকুনের দোয়ায় গরু মরে না– বহুল প্রচলিত এ প্রবাদে শকুনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। কবিতা, রাজনীতির মাঠে বক্তৃতা-বিবৃতিতেও শকুনের নাম দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেন অনেকে। অথচ বাস্তবে মরা-পচা খেয়ে বেঁচে থাকা পরিবেশ-প্রকৃতির পরম বন্ধু এ পাখি।

প্রাণীর মরদেহের রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে শকুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবেশের এমন নিবেদিত বন্ধু এখন মহাবিপন্ন। বিরূপ পরিবেশ,খাদ্য সংকট, গাছ কাটা,মৃত পশুর মাংসে ক্ষতিকর ব্যথানাশক ওষুধের উপস্থিতির কারণে প্রায় হারিয়ে গেছে শকুন। তবে আশার খবর, সারাদেশে শকুন কমলেও হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বনে এ পাখির প্রজননহার বেড়েছে।

বন বিভাগ ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) দেশে ২০১৪ সাল থেকে শকুনের পরিচর্যা নিয়ে কাজ করছে। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং খুলনার সুন্দরবনে বিলুপ্তপ্রায় শকুনের জন্য দুটি ‘নিরাপদ এলাকা’ ঘোষণা করা হয়। সেখানে শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়, যেখানে শকুন নিরাপদে প্রজনন ও বিশ্রামের সুযোগ পায়। এতে রেমা-কালেঙ্গায় শকুনের প্রজনন সফলতাও বেড়ে যায়। ২০১৪ সালের শুমারি অনুযায়ী দেশে শকুনের সংখ্যা ২৬০, এর মধ্যে ৭৫টি হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গায়।

সারাদেশে শকুনের প্রজনন হার অপরিবর্তিত থাকলেও হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বনে বেড়েছে। ২০১৪ সালে প্রজনন হার ছিল ৪৪ শতাংশ, ২০২০ সালে সেটি বেড়ে ৫৭ শতাংশ হয়। রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণীতে ২০২১-২২ মৌসুমে ১৪টি শকুনের বাসার মধ্যে ১০টি সাফল্য এসেছে, প্রজনন হার ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২২-২৩ মৌসুমে ১৮টি বাসার মধ্যে ১৩টিতে সফলতা পাওয়া গেছে, প্রজননহার ৭২ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে আইইউসিএনের শুমারিতে ২৬৭টি শকুনের অস্তিত্ব মিলেছে।

এ অবস্থায় আজ শনিবার পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস’। বিপর্যয়ে পড়া শকুন সংরক্ষণ এবং বংশবৃদ্ধির তাগিদ থেকে সারাবিশ্বে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। শকুন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বন বিভাগ ও আইইউসিএন মৌলভীবাজারের শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

শকুন গবেষকরা বলছেন, পশু চিকিৎসায়, বিশেষ করে গরুর চিকিৎসায় ব্যবহার হওয়া দুটি ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ও কিটোপ্রোফেন জাতীয় ওষুধের বহুল ব্যবহারের ফলেই দক্ষিণ এশিয়া থেকে শকুন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বন বিভাগ ও আইইউসিএন পরিচালিত শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দীপু সমকালকে বলেন, ‘শকুন রক্ষায় আমাদের সব কার্যক্রম চলমান। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শকুনের অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। কারণ শকুন যেন আমাদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না যায়। প্রজনন মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত খাবার দেওয়া হয়। ১৭ অক্টোবর থেকে দুই সপ্তাহ আমরা শকুনের ট্র্যাকিং করব।’

এদিকে, রেমা-কালেঙ্গা ও সুন্দরবনের পর পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা গ্রামের মোল্লাপাড়ার এক বাগান দেশে বাংলা শকুনের তৃতীয় কলোনি। সেখানে ১৫-২০টি বাংলা শকুন আছে। বনাঞ্চলের বাইরে লোকালয়ে দেশে একসঙ্গে এত বেশি শকুন কোথাও দেখা যায় না।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ২০১০ সালে দেশব্যাপী শকুনের জন্য ক্ষতিকারক ওষুধ ডাইক্লোফেনাক নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আমরা যে মাইলফলক অর্জন করেছি, তা বিশ্ব সংরক্ষণ সম্প্রদায়ের কাছেও একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গত বছর কিটোপ্রোফেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রণীত ১০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ শকুন সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়েই প্রাণীটি সংরক্ষণে সব ধরনের কার্যক্রম চলছে।

২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
এজি