Home / আন্তর্জাতিক / বিশ্বে নতুন আতঙ্ক প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’
hanta

বিশ্বে নতুন আতঙ্ক প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’

বিশ্বজুড়ে এক নতুন প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার কবলে পড়ে ইতোমধ্যে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে যে, এটি প্রচলিত কোভিড কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়; বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির একটি সংক্রমণ। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মহামারি ও মহামারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো উপসর্গযুক্ত যাত্রী বা ক্রু নেই। অতীতে অ্যান্ডিস ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবগুলোতে মূলত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকাদের মধ্যেই মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটেছিল।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে এটি কোনো নতুন মহামারি বা কোভিডের শুরু নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ জায়গায়, বিশেষ করে একটি জাহাজে ঘটে যাওয়া প্রাদুর্ভাব মাত্র।

সংস্থাটির জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স কোঅর্ডিনেশন বিভাগের পরিচালক ডা. আবদিরাহমান মাহমুদ জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় দেখা দেওয়া প্রাদুর্ভাবের অনুরূপ। সে সময় একটি সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল। তার মতে, ‘যদি আমরা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং আইসোলেশন ঠিকভাবে অনুসরণ করি, তাহলে এই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব। এটি বড় কোনো মহামারি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এটি নির্দিষ্ট একটি সীমিত পরিবেশে ঘটছে, যেখানে মানুষ দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠভাবে মিশছে।’

হান্টাভাইরাস ও কোভিডের মূল পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মতো প্রাণীর লালা বা মলমূত্র থেকে ছড়ায়। অন্যদিকে কোভিড অত্যন্ত সংক্রামক এবং বাতাসের মাধ্যমে সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। হান্টাভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল এবং এটি কেবল দীর্ঘ সময় অতি ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলেই সম্ভব। ফলে এর বিস্তার সাধারণত স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। ডা. মাহমুদ আশ্বস্ত করেছেন যে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিকভাবে কার্যকর করলে এ সংক্রমণ শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব এবং এটি কোনো বড় মহামারিতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নেই।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ডা. টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, অ্যান্ডিস ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড প্রায় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। এ দীর্ঘ সময়ের কারণে ভবিষ্যতে আরও কিছু রোগী শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বর্তমানে অনেকটাই কম বলে সংস্থাটি মূল্যায়ন করছে। কন্টাক্ট ট্রেসিং ও আইসোলেশনের ওপর জোর দিয়ে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

৯ মে ২০২৬

এ জি