Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / ফরিদগঞ্জে নিজ ঘরে ৩০ঘণ্টা পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
শিক্ষকের

ফরিদগঞ্জে নিজ ঘরে ৩০ঘণ্টা পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

স্ত্রী মারা গেছেন দুই বছর আগে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, একমাত্র ছোট ছেলেটি তার বোনের বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় পড়ে। ফলে নিজ ভিটায় একাকী জীবনযাপন করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলী মাস্টার (৬০)। অবশেষে মারা যাওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর নিজ ঘরের বাহির থেকে উদ্ধার হলো তাঁর মাছি ও পোকামাকড়ে ঘেরা মৃতদেহ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম বদরপুর গ্রামের আনিস ভূঁইয়া বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইউসুফ আলী একাকী ঘরে বসবাস করতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ছোট ভাইদের সাথে স্থানীয় হারুনের দোকানে চা খেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর থেকে আর কেউ তাঁকে দেখেননি। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে বাড়ির দুই শিশু ঘরের বাইরে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। স্থানীয়রা এসে দেখেন, তাঁর মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পোকামাকড় ও মাছি উড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, গোসল সেরে ঘরে ফেরার আগেই স্ট্রোক করে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ ও সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমজাদ আলী চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

নিহতের ছোট ভাই খোকন ভূঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আমরা একসঙ্গে দোকানে বসে চা খেয়েছি। তারপর ভাই বাড়িতে আসেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে উনি একাই থাকতেন। শুক্রবার দুপুরে জুমার আগে বাড়ির ছেলেরা রক্তমাখা লাশ পড়ে থাকতে দেখে সবাইকে খবর দেয়।

নিহতের মেজো মেয়ে রেহানা খাতুন বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। তিনি ঘরে ঢোকার আগেই স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আমার ছোট ভাই আমার কাছে থেকেই মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে। ভাইকে দিয়ে রোজ বাবার জন্য খাবার পাঠাতাম। বৃহস্পতিবার পাঠাতে পারিনি। বাবাকে ফোনেও পাচ্ছিলাম না। তাই শুক্রবার সকালে এসে দেখি বাবার নিথর দেহ পড়ে আছে। বাবার কোনো শত্রু ছিল না, স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ জানান, মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা আমাদের খবর দেয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় এবং তাঁদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২২ আগস্ট ২০২৬