Home / আরো / নারী / ‘ভাইয়া আমি মহিলা ড্রাইভার, আমার বাইকে চড়তে আপত্তি নাই তো?’
Shahanaj-Uber
স্কুটারের ছবিটি প্রতীকী

‘ভাইয়া আমি মহিলা ড্রাইভার, আমার বাইকে চড়তে আপত্তি নাই তো?’

উবারে এ কল দিলাম, ওপাশে রাইডার ফোন ধরে প্রথমেই জিজ্ঞেস করল, ‘ভাইয়া আমি মহিলা ড্রাইভার, আমার বাইকে চড়তে আপত্তি নাই তো?’

আমি যখন বললাম, আপত্তি থাকবে কেন! উনি বললেন, আমি আসছি ভাইয়া। ভেসপা (স্কুটার) চালিয়ে রাইডার আসলো। রাইড শুরুর পর তিনি জানালেন, অনেক প্যাসেঞ্জার (যাত্রী) কেবল মাত্র আমি মেয়ে হবার কারণে তার বাইকে চড়ে না।

নারী আক্ষেপ করে জানাল, মাঝে মাঝে আমি ভাইয়া, অনেক দূর থেকে পিকআপ পয়েন্টে আসি, প্যাসেঞ্জার যখন দেখে আমি মেয়ে মানুষ, ওরা বলে, মেয়েদের বাইকে উঠব না, কেন্সেল করে দেন। আমি প্রতিবাদ করি না, আমার লস হলেও কেন্সেল করে দেই। জোর করে তো কিছু হয় না, তাই না?’

উনি বললেন, ভাইয়া প্রতিদিন এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়, আগে মন খারাপ হতো, ভাবতাম, ছেড়ে দিবো,। কিন্তু আমাকে তো রোজগার করতে হবে, আমার দুইটা মেয়ে, ওর বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে, মেয়েদেরকে আমাকেই পড়াশুনা করিয়ে মানুষ করতে হবে! মেয়েরা চাইলে পাঁচ মিনিটে হাজার টাকা কামাই করতে পারে, কিন্তু আমি ঐ লাইনে যাবো না, আমি সম্মানের সাথে রোজগার করি। আপনার মতো মানুষরা যখন আমাদের প্রশংসা করে, তখন খুব ভালো লাগে। মনে সাহস পাই।

জিজ্ঞেস করলাম, পুলিশ ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ওরা কেমন ব্যবহার করে? উনি খুশি হয়ে বললেন, ওরা খুব ভালো। আমাকে পারলে স্যালুট দেয়। আমি রুলস ব্রেক করি না।

বড় মেয়ে ক্লাশ নাইনে পড়ে ছোটটা ক্লাশ ওয়ানে। আমাকে বলল, দোয়া করবেন, বড় মেয়েটা ইন্টারপাশ করে ভালো কোথাও চাকরি পেলে আমি নিশ্চিন্ত। আজ বাসা থেকে বের হবার সময় বড় মেয়ে বলল, আম্মু আজ শুক্রবার, আজ বাসায় থাকো। আমি বাইক নিয়ে বের হইছি। বাজার তো করা লাগবে।

শাহনাজ আপার বাইকে চড়ে আমি ফিল করলাম, একটা মেয়েকে প্রতিদিন কতশত প্রশ্নবোধক চোখের সামনে জীবন চালাতে হয়। মোহাম্মদপুর থেকে টিএসসি, যতগুলো সিগন্যালে বাইক থামল, আশেপাশের মানুষজন অবাক চোখে আমাদের বাইকের দিকে চেয়ে রইল। কয়েকজনের চোখে কৌতুক, কয়েকজনের নাক সিটকানো ভাব। পুরুষতান্ত্রিক ইগো! মেয়ে ড্রাইভারের পিছনে ছেলে বসেছে!

‘মেয়েদের স্কুল কলেজে যেতে দেবেন না’ বলে যারা আমাদের মেয়েদের দমিয়ে রাখতে চায়, তারা সমাজের জন্য কোনদিন শুভ মঙ্গল কিছু বয়ে আনেনি। খুশির কথা, শাহনাজরা ওইসব রক্তচক্ষুকে গোনাতেও ধরে না।

সমাজ পরিবর্তন ঘটে শাহনাজদের মতো উদ্যমী মানুষের হাত ধরে।

রাফিউজ্জামান সিফাতের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত-

বার্তা কক্ষ
১২ জানুয়ারি, ২০১৯

Leave a Reply