জন্মের পর থেকেই স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে ছয় বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল মামুনের।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মধ্য গুনরাজদী এলাকার এই শিশুটি জন্মের সময় জটিলতার কারণে শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিছানায় জীবন কাটাচ্ছে।
ছেলেকে সুস্থ করে তোলার আশায় চিকিৎসার পেছনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার।
মামুনের বাবা মো. লিটন মিজি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি একে একে নিজের সাতটি অটোরিকশা ও একটি ড্রেজার মেশিন বিক্রি করেছেন। তবুও চিকিৎসার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
মা তনিয়া বেগম একজন গৃহিণী। সন্তানের সেবাযত্নেই তার দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় এক ধাত্রীর সহায়তায় মামুনের জন্ম হয়। জন্মের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে পরবর্তীতে তার শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। জন্মের পর তাকে ঢাকার একটি মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ ও এনআইসিইউতে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন ছিল সে। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে, বিদেশে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের। গত পাঁচ বছর ধরে বাসায় নিয়মিত ম্যাসেজ থেরাপি দিয়ে ছেলের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় বহন করা তাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
আবেগঘন কণ্ঠে মামুনের বাবা মো. লিটন মিজি বলেন, কারো কাছে সহায়তা কীভাবে চাইব, সেটাও বুঝতে পারছি না। এক সময় আমি নিজেই অনেককে সাহায্য করেছি। এখন নিজের সন্তানের চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাবা হিসেবে আমার একটাই ইচ্ছা, ছেলেকে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য নেই। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পুরো পরিবারই এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে পরিবারটি। মানবিক সহায়তা ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ পেলে মামুনের উন্নত চিকিৎসার পথ সুগম হতে পারে।
ছোট্ট মামুনের সুস্থতার অপেক্ষায় দিন গুনছে তার পরিবার। তাদের একমাত্র প্রত্যাশা- সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতায় সন্তানটি যেন একদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম অনিক/ ১ জুন ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur