মতলব দক্ষিণ

মতলবে অবাধে পুকুর ভরাট চলছেই

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলাদী এলাকায় একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। পুকুরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০ ফুট ও প্রস্থ ২০০ ফুট। এর মালিক মদন সাহা। বাড়ি করার জন্য এক মাস ধরে বালু ফেলে পুকুরটি ভরাট করছেন তিনি।

এটি নতুন নয়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিধিবহির্ভূতভাবে পাঁচ শতাধিক পুকুর বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নয়-দশ বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলছে। প্রাকৃতিক এসব জলাধার ভরাট করায় বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা।

মতলব উত্তর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সরকারি এবং ব্যক্তিমালিকানার ছোট-বড় প্রায় তিন হাজার পুকুর আছে। এসব পুকুরের মধ্যে ছেংগারচর পৌর এলাকায় পুকুর রয়েছে পাঁচ শতাধিক। সেখানে সরকারি পুকুর আছে মাত্র একটি। বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানার পুকুর।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় দেড় হাজার পুকুর আছে। মতলব পৌর এলাকায় পুকুর রয়েছে চার শতাধিক। এর মধ্যে সরকারি মালিকানার পুকুর আছে মাত্র দুটি। বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। দুই উপজেলার অর্ধেকের বেশি পুকুরই পুরোনো ও মাঝারি আকারের।

মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের দুজন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়-দশ বছর ধরে পুকুর ভরাটের অবৈধ প্রতিযোগিতা চলছে। ভরাট হওয়া পুকুরের সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া কঠিন। তবে ওই সময়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার প্রায় ২০০ এবং মতলব উত্তর উপজেলার ৩০০-এর বেশি পুকুর ভরাট হয়েছে বলে তাঁদের কাছে খসড়া হিসাব আছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব পৌরসভার দক্ষিণ, মধ্য ও পূর্ব কলাদী, নবকলস, ঢাকিরগাঁও, দূরগাঁও, ভাঙ্গারপাড়, বোয়ালিয়া, বাইশপুর, ঘোষপট্টি ও চরমুকুন্দি এবং মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার কেশাইরকান্দি, ঘনিয়ারপাড়, শিকিরচর, ঠাকুরচর, বালুচর, ছেংগারচর, উত্তর ছেংগারচর ও বারোআনি এলাকায় দেখা গেছে, এসব স্থানে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের অনেক ব্যক্তিগত পুকুর মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এসব ভরাট পুকুরের জায়গায় ঘরবাড়ি, বিপণিবিতান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে বড় অট্টালিকাও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর এলাকার চারজন এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার কলাদী এলাকার পাঁচ বাসিন্দা বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে তাঁদের পৈতৃক পুকুর বালু দিয়ে ভরাট করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। পুকুর ভরাট করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, জানেন না। এ কারণে প্রশাসনের অনুমতি নেননি। পুকুর ভরাট করার সময় কেউ তাঁদের বাধাও দেননি।

জানতে চাইলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পুকুর বা জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ। পুকুর বা জলাশয় ভরাট করা বা যেকোনো জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে পুকুর ভরাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা কক্ষ
১৪ মে ২০১৯

Share