Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে ১৬ কোটি টাকায় স্বাস্থ্যবিভাগীয় ৪ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে

চাঁদপুরে ১৬ কোটি টাকায় স্বাস্থ্যবিভাগীয় ৪ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে

চাঁদপুরে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উপজেলায় একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্বাস্থ্যবিভাগীয় ৪ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এগুলো হলো একটি ফরিদগঞ্জে অত্যাধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ, বিভিন্ন উপজেলায় নতুন কমিউনিটি কিøনিক, পুরানো নতুন কমিউনিটি কিøনিকের সংস্কার, ইত্যাদি। চাঁদপুরে বর্তমান চলমান ২ শ’ ২৮ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সাথে নতুনভাবে আরোও ৮টি যোগ হবে।

স্বাস্থ্যবিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মো.দেলোয়ার হোসেন সোমবার (৮ অক্টোবর) চাঁদপুর টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হচ্ছে। পুরনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভেঙ্গে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৩ তলাভীতে এটি নির্মিত হচ্ছে। এছাড়াও এ অর্থবছরে জেলার বিভিন্ন উপজেলার আরো ৮ টি নতুন কমিউনিটি কিøনিক নির্মিত হচ্ছে। এর কোনো কোনোটির ব্যয় ২৫ টাকা ও কোনো কোনোটির ব্যয় ২৮ লাখ টাকা।

স্বাস্থ্যবিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মো.দেলোয়ার হোসেন সোমবার (৮ অক্টোবর) চাঁদপুর টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্বাস্থ্যবিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ও কম হলেও অন্তত ১শ’ কক্ষ হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সকল প্রকার আধুনিক ব্যবস্থাসহ শিশু,ডেলিভারি,প্রসূতি সেবা ও সকল প্রকার প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।

এদিকে চাঁদপুর জেলায় প্রতিটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে হাজীগঞ্জে ৪টি, শাহরাস্তি ২টি, মতলব দক্ষিণে ২টি এবং হাইমচরে ১টি কমিউনিটি কিøনিক নির্মিত হচ্ছে। আগামি ৪ মাসের মধ্যেই কমিউনিটি কিøনিকগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এসব কিøনিকগুলোতে স্টোর,ডেলিভারি ওয়ার্ড, ওয়েটিংরুম ও প্রয়োজনীয় বারান্দা থাকবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সব ধরণের চিকিৎসা সেবা থাকবে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৮-১৯ বছরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৭ টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ১০ ইউনিয়ন, ২৮টি কমিউনিটি কিøনিক ও ১৫ টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের মেরামতের প্রকল্প প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মো.দেলোয়ার হোসেন চাঁদপুর কে বলেন,‘ ফরিদগঞ্জের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ও নতুন কমিউনিটি কিøনিকগুলো নির্মিত হলে এলাকার স¦াস্থ্যসেবার মান বাড়বে, হতদরিদ্র পল্লীর মানুষের স¦াস্থ্যসেবা দোরগোঁড়ায় পৌঁছে যাবে। প্রাথমিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ নতুন ৮ টি ক্লিনিক হবে অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন। স্বাস্থ্য সেবায় কিøনিকগুলো হবে মডেল। প্রতিটি ক্লিনিকে ৩৩ প্রকার ঔষধ সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় এবং বিনামূল্যে রোগীদের দেয়া হয়। পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ, জাতীয় টিকা দিবস, অন্যান্য টিকা, কৃমিনাশক টেবলেট প্রভৃতি সরকারি নির্দেশিত স্বাস্থ্যমূলক কার্যক্রমগুলোও কমিউনিটি কিøনিকগুলো থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।

আর্সেনিক আক্রান্ত ,সর্দি,কাশি,আমেশয়,ডায়রিয়া,এ্যাজমা,কীটপতেঙ্গের কামড়ের চিকিৎসা,পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামশ,কাশি, চুলকানি,দুর্বলতা,স্বাভাবিক ডেলিভারী, গ্রাস্টিক,আলসার ,রক্তশূন্যতা বা স্বল্পতা প্রভৃতি রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানই কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রধান কাজপ্রভৃতি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে সেবা পাচ্ছে।’

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায় , প্রতিদিন গড়ে ১৫-১৬ সহস্রাধিক শিশু,কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী মা ও তার,সন্তান প্রসবকালীন সময় ও পরে, নবজাতক শিশু,বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছে। কোনো কোনো জটিল রোগীকে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স কিংবা ঢাকায় রেফার করে থাকে ।

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিসহ ৬ টি অত্যাবশকীয় টিকা প্রদান করা হয়। এখানে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মী ও ২ শ’ ১০ জন হেলথ প্রোভাইডর নিয়োজিত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে তৎকালীন আ’লীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা সারা দেশব্যাপি পল্লী এলাকায় প্রতি ৬ হাজার হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে বারান্দাসহ ৬ শত্যাংশ ভূমির ওপর একটি আর্সেনিকমুক্ত টিউওবেল বা কলসহ ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে দু’কক্ষ বিশিষ্ট একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জমিদাতা ও স্থানীয় পর্যায়ের ১৭ সদস্য বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সার্বিক পরামর্শে পরিচালিত হয়ে আসছে । ২০০০-’০১ অর্থবছর পর্যন্ত ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করার পর পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের ফলে বাকিগওলো নির্মাণ কাজ ভেস্তে যায় ।

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার পাটগাতি ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা গ্রামে দেশের প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ শেষে ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রতিবেদক : আবদুল গনি
৮ অক্টোবর , ২০১৮ সোমবার

Leave a Reply