Home / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

মক্কা ও মদিনার মসজিদে রমজানেও সাধারণের উপস্থিতি স্থগিত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)’কে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অনুদান দিয়েছেন। যা করোনা মহামারি মোকাবিলায় কাজে লাগানো যাবে ।

সৌদি স্বাস্থ্য বিষয়ক যৌথ কমিটির পরামর্শে জনস্বার্থ বিবেচনায় পবিত্র রমজান মাসেও সৌদি আরবের মক্কা মসজিদুল হারাম ও মদীনার মসজিদে নববীতে সর্ব সাধারণের জন্য তারাবীহসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিতি স্থগিত থাকবে।

২০ এপ্রিল রাতে হারামাইন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রহমান আস সুদাইস এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, এসময়ে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ সংক্ষেপিত আকারে ৫ সালামে (দশ রাকাত) আদায় করা হবে।

এ রমজানে হারামাইনে ইতিকাফ ও চিরাচরিত ইফতার প্রোগ্রাম বন্ধ থাকবে। তবে, হারামাইনের ইফতার মক্কা ও মদিনা উভয় শহরে বিতরণ করা হবে।

পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত উমরা বন্ধ থাকবে।উল্লেখ্য মক্কা ও মদীনা উভয় শহরেই বর্তমানে ২৪ ঘন্টার কারফিউ চলমান রয়েছে।

সৌদি আরবের নাগরিক এবং অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রদেশের প্রবেশ মুখে সবাইকে প্রাথমিক করোনা টেষ্ট করা হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে সৌদি স্বাস্থ্যকর্মী’রা মাঠ পর্যায়ে শ্রমিক ক্যাম্প এবং বাসাবাড়িতে গণহারে করোনা পরীক্ষা করছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৌফিক আল রাবিয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ কারনেই দেশটিতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১২২ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৪৮৪জন। মারা গেছে ৬জন, এই নিয়ে দেশটিতে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছেন ১০৩জনে। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ৮৮ জন, দেশটিতে সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৪৯০জন।

এদের মধ্যে ২৭ ভাগ সৌদি ৭৩ ভাগ অভিবাসী। পুরুষ ৭৭ ভাগ আর মহিলা ২৩ ভাগ আক্রান্ত।

প্রতিবেদক:সাগর চৌধুরী,২১ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাস নিয়ে ১১ মাস আগেই সতর্ক করেছিলেন চীনা ল্যাবের গবেষক

সার্স-কভ-২ ভাইরাসের বদল কিভাবে হয়েছে, এই ভাইরাসের আসল উত্‍স কী, কেন এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তার সঠিক উত্তর এখনো অজানা। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলছে, চীনের ল্যাবরেটরি থেকে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। আর সেই তথ্য লুকাচ্ছে চীন। তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হলেও প্রায় এক বছর আগে এই ভাইরাস নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ‘ব্যাট ওম্যান’ নামে পরিচিত উহানের ওই ল্যাবরেটরির এক গবেষক।

উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির অন্যতম প্রধান গবেষক শি ঝেংলি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। ১১ মাস আগেই সতর্ক করেছিলেন তিনি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে এই ভাইরাস মহামারির আকার নিতে পারে। শি ও তার টিম বাদুড় থেকে আসা এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছিলেন। উহানের ওই ল্যাবেই গবেষণা চলছিল।

বাদুড়ের এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি ‘ব্যাট ওম্যান’ হিসবেও পরিচিত। জানা যায়, এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তিনদিনের মাথাতেই নতুন করোনাভাইরাসের জিন নিয়ে তথ্য সামনে এনেছিলেন এই নারী গবেষক। কিন্তু তার উপদেষ্টারা তাকে চুপ করিয়ে রাখেন।

ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ডেপুটি ডিরেক্টর শি ও আরো তিন গবেষক মিলে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। মার্চ মাসে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশ্যে আসে। সেখানেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, সার্স, মার্স ও সোয়াইনের পর ফের করোনাভাইরাস মহামারির আকার ধারণ করতে পারে।

ওই তিনটি রোগই হয়েছিল করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত, যা বাদুড় থেকে আসে। আর এর মধ্যে দুটিই চীন থেকে ছড়িয়ে ছিল। ওই গবেষক লিখেছিলেন, সার্স কিংবা মার্সের মতো করোনাভাইরাস ফের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। আর চীন থেকেই তা ছড়ানোর আশঙ্কা সবথেকে বেশি।

তিনি আরো বলেছিলেন যে, গোড়া থেকেই সতর্কতা নেওয়া হলে, সংক্রমণ কমানো যেতে পারে। ওই গবেষণাপত্রে স্পষ্ট লেখা ছিল, চীনারা তাজা মাংসই সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর বলে মনে করেন। আর এই খাদ্যাভাসই সংক্রমণের কারণ হয়ে ওঠতে পারে। বেইজিং নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালেই শি ও তার টিম আবিষ্কার করে যে মানুষ বাদুড় থেকে সরাসরি সংক্রমিত হতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে শি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে ল্যাবের কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ গবেষণাগার থেকে ছড়ায়নি ভাইরাস। চীনও ওই দাবি বারবার উড়িয়ে দিয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, উহানের ওই ল্যাবরেটরি থেকেই লিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস।

উহানের মাছের বাজারের সঙ্গে ভাইরাসের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই মনে করছে বহু বিশেষজ্ঞ। আমেরিকা এই বিষয়ে রীতিমত তদন্ত শুরু করেছে। মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, কিভাবে গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল তার নিখুঁত তদন্ত করবে আমেরিকা।

চীনের ভাইরাস কালচার কালেকশনের কেন্দ্র এই গবেষণাগার। বলা যেতে পারে এটাই এশিয়ার বৃহত্তম ভাইরাস ব্যাংক। যেখানে ১৫০০ ধরনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ইবোলার মতো ভাইরাস নিয়েও গবেষণা করা হয়। যেসব ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, সেরকম ভাইরাস রয়েছে এই গবেষণাগারে।

সূত্র: ডেইলি মেইল।

করোনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা অনেক

করোনায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা অনেক। শুধু সিঙ্গাপুরে করোনা–আক্রান্তদের ২৯৬২ জনই বাংলাদেশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের মৃত্যু অব্যাহত আছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে আরও ৭ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। আর যুক্তরাজ্যে গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও ১৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এর ফলে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৪ জন এবং যুক্তরাজ্যে ৭৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।

আর সিঙ্গাপুরে ২হাজার ৯৬২ জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি ও কূটনৈতিক সূত্র এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আজ সোমবার এ তথ্য পাওয়া গেছে।

লন্ডন থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম গতকাল সন্ধ্যায় জানান, দুই-তিন দিন ধরে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সোমবার পর্যন্ত অন্তত ৭৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে বড় অংশটি হচ্ছেন বৃহত্তর লন্ডনের। স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটি মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, স্থানীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে এ সংখ্যার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইতালির রোম থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদার জানান, এখন পর্যন্ত ইতালিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ৮ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এঁদের মধ্যে ৭ জন মিলানে এবং একজন রোমে মারা গেছেন। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ জনের মতো।

তবে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, দেশটিতে কয়েক শ বাংলাদেশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন।

গতকাল রোববার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কানাডা, ইতালি, স্পেন, কাতার, সুইডেন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কেনিয়া, লিবিয়া ও গাম্বিয়া—এই ১৩ দেশে ২৯৭ জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন। এঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি বাদ দিলে সৌদি আরবে ১৫, কানাডায় ৬, স্পেনে ৫, কাতারে ৪ এবং সুইডেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কেনিয়া, লিবিয়া ও গাম্বিয়ায় ১ জন করে বাংলাদেশি মারা গেছেন।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে বিদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েই চলছে। এর সঙ্গে বাড়ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের আক্রান্তের সংখ্যা।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৯৬২ জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অবশ্য গতকাল এক দিনেই দেশটিতে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪২৬ জন আক্রান্ত বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এঁদের মধ্যে ১৬ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক, বাকিরা বিভিন্ন দেশের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আক্রান্তদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের সংখ্যা বেশি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২০ এপ্রিল ২০২০

তুরস্কে মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে

তুরস্কে মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লকডাউন ও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেও আক্রান্তের সংখ্যায় লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।

রোববার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকা বলেছেন, তুরস্কে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৭ জন। এ সংখ্যা যোগ করে আক্রান্তের দিক দিয়ে করোনার উৎপত্তিস্থল চীনকে ছাড়িয়ে গেল তুরস্ক।

তুর্কি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এদিকে জানা গেছে, শুধু চীনই নয় করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ৫ টি দেশের পরেই এখন তুরস্কের অবস্থান। বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক।

করোনায় প্রাণহানি ও অসুস্থের হিসাব রাখা আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ারল্ডোমিটারে দেয়ে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৩০৬ জন। মারা গেছেন ২ হাজার ১৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৯৭৬ জন।

একই তথ্য দিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকা বলেছেন,গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৭ জন করোনা রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, করোনার বিস্তার ঠেকাতে আমরা বেশি সংখ্যক টেস্ট করা দিকে নজর দিয়েছি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৩৪৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।সব মিলিয়ে ৬ লাখ ৩৪ হাজার জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত,গত ১০ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনা রোগী শনাক্ত করা হয় তুরস্কে। তারপর থেকেই দ্রুত হারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বার্তা কক্ষ

বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনী মোসলেম উদ্দিন কলকাতায় আটক! : আনন্দবাজার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত আরেক খুনি রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেম উদ্দিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতার প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

২০ এপ্রিল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গ্রেফতার ও ফাঁসি কার্যকর হওয়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন কলকাতায় ছিলেন। তার ফাঁসি কার্যকরের আগে তার কাছ থেকে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান জেনে নেয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় রিসালদার মোসলেম উদ্দিনকে উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, মাজেদ আটক হওয়া মাত্রই নিজের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে গা ঢাকা দিয়েছে মোসলেম উদ্দিন।

ভারতের গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, লকডাউনের সময় ভারত থেকে মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হতে পারে বলে ঢাকা বিষয়টি ভারতের গোয়েন্দাদের জানায়। ভারতীয় গোয়েন্দারা এই খুনিকে কার্যত তাড়িয়ে সীমান্তের কোনো একটি অরক্ষিত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে সরকারিভাবে কিছুই স্বীকার করা হয়নি।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও খবর, উত্তর ২৪ পরগনার একটি আধাশহরে ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া ছিলেন মোসলেম উদ্দিন।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হানা দেয়া দলটির সামনের সারিতে ছিল মোসলেম উদ্দিন। অনেকের দাবি, মোসলেম উদ্দিনই গুলি করে হত্যা করেছিল শেখ মুজিবকে। গত ১২ এপ্রিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল মাজেদ ২৩ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন।

প্রসঙ্গত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১২ আসামিকে ২০০৯ সালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়।

রায় কার্যকরের আগে ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা। আবদুল মাজেদ গ্রেফতার হওয়ার পর এখন পলাতক আছেন পাঁচজন। তারা হলেন- খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন।

ঢাকা ব্যুরো চীফ, ২০ এপ্রিল ২০২০

‘আমি আমার সমাপ্তি দেখতে পাচ্ছিলাম’

‘আমি আমার সমাপ্তি দেখতে পাচ্ছিলাম’। কভিড-১৯ থেকে কিভাবে বেঁচে উঠলেন তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বেলজিয়ামের ডাক্তার অ্যান্তয়নে সাসিনে। তিনি তিন সপ্তাহ পর কোমা থেকে ফিরেছেন। ব্রাসেলস এর ডেল্টা চিরেক হাসপাতালের এ চিকিৎসক বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছিলাম, আর কখনই জেগে উঠবো না।’

রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে নিজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ৫৮ বছর বয়সী এ ডাক্তার। তারপর ক্রমেই তার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তাকে আইসিউতে পাঠানো হয়। পরিস্থিতির খুব অবনতি হওয়ায় তাকে তিন সপ্তাহ কোমায় অবস্থান করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমার সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে থাকলেও বাবার স্বপ্ন মনের মধ্যে বারবার উঁকি দিচ্ছিলো।’

অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্যরকম পরিস্থিতি। আমার বাবা চারবছর আগে মারা গিয়েছিলেন। এখন আমি যখন প্রায় মারা যাচ্ছি, স্বপ্নে বাবা আসলেন। আমি অনেক সময় ধরে তার সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের সেবা করার মিশনের কথা স্বরণ করিয়ে দিলেন। এরপরই যেনো নতুন আরেকটি জীবন নিয়ে আসলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমার অনেক আনন্দ লেগেছিলো, যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলাম, দেখতে পেলাম অনেক বন্ধু-বান্ধব আমার চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে।’ পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য ডা. অ্যান্তয়নে সাসিনে এখন বাসায় অবস্থান করছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বেলজিয়ামে এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৪৯৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৫ হাজার ৬৮৩ জন মারা গেছেন। সূত্র: রয়টার্স

লকডাউনে নিউইয়র্কে ভিডিও কলে বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন গভর্নর

নিউইয়র্ক মানেই ছিল একসময় স্ট্যাচু অব লিবার্টি, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, টাইমস স্কয়ার, রকফেলার সেন্টার, সেন্ট্রাল পার্ক, অ্যাম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ব্রুকলিন ব্রিজ,মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা আলো ঝলমলে সেই নিউইয়র্ক শহর এখন করোনার থাবায় মৃত্যুপুরী। তারমধ্যে লকডাউনে নিউইয়র্কে ভিডিও কলে বিয়ে অনুমতি দিয়েছেন গভর্নর।

অদ্ভুত এক আঁধার নেমেছে শহরজুড়ে। আশে-পাশের অ্যাপার্টমেন্টগুলো ভয়ে জানালা পর্যন্ত খুলছে না। চারদিকে লাশ আর লাশ। শুধু নিউইয়র্ক শহরেই করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৭ হাজার ৬৭১ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে থমকে গেছে নিউইয়র্কবাসীর জীবন।

ধমকে যাওয়া নগরবাসীর জীবনে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে দিতে ভিডিও কলে বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো। গভর্নর শনিবার বলেছেন, নিউইয়র্কের বাসিন্দারা করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে শহরের বিবাহ অফিস বন্ধ থাকাকালীন ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান করতে পারবেন।

কুওমো বলেছেন, ‘আমি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করছি যে নিউইয়র্কে দূর থেকে বিয়ের লাইসেন্স পেতে এবং কর্মকর্তাদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হবে।’

সাধারণত নিউইয়র্কে বিয়ের অনুমতি পেতে বর-কনেকে সশরীরে ম্যারেজ ব্যুরো’তে উপস্থিত হয়ে আবেদন জানাতে হয়। তবে করোনার কারণে সেই আইন শিথিল করা হল। যাতে নগরীর বাসিন্দারা লকডাউনে ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরে বসে বিয়ে করতে পারেন।

সূত্র- ভ্যানগার্ড।

‘স্টে অ্যাট হোম’ নির্দেশনা ভেঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে জারি করা লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। ‘স্টে অ্যাট হোম’ নির্দেশনা অমান্য করেই রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন স্থাপনার সামনে প্রতীকী বডিব্যাগ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি কারও কারও হাতে ভারী অস্ত্রও দেখা গেছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যকে ‘স্বাধীন’ করার আহ্বান জানানোর পর থেকেই রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে ওকলাহোমা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, কেন্টাকি, ওহিও, নর্থ ক্যারোলিনা ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে।

শনিবার টেক্সাসের ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের সামনে লকডাউন তুলে নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। তাদের অনেকের হাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. অ্যান্থনি ফওসিকে বহিষ্কারের দাবিতে প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় সরকার কিছু না বললেও টেক্সাস কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, তারাই হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন তুলে নেয়া প্রথম অঙ্গরাজ্য। আগামী সপ্তাহেই সেখানকার দোকানপাট খুলে দেয়া হবে।

ঘরে থাকার নির্দেশনা না মেনে লকডাউন-বিরোধী বিক্ষোভ আয়োজনের অভিযোগে শুক্রবার নিউ জার্সিতে আটক করা হয়েছে এক নারীকে।

বিক্ষোভ হয়েছে হ্যামিল্টনেও। ওয়ালমার্টের পার্কিং লটে এদিন সমবেত হয়েছিলেন শত শত বিক্ষোভকারী। তাদের অনেকের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও গাড়িতে লকডাউন-বিরোধী স্লোগান লেখা ছিল।

শনিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের রাস্তায় নেমেছেন অসংখ্য মানুষ। ঘরে থাকার নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তায় বেরিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

এদিন বিশাল গাড়িবহর নিয়ে লকডাউন-বিরোধী মিছিল হয়েছে অ্যানাপোলিসে। তবে সামাজিক দূরত্ব রেখে সবাই গাড়িতে বসেই বিক্ষোভ করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। ওই দলটি ম্যারিল্যান্ডের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, ধর্মীয় স্থাপনাসহ সব ধরনের কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবিতে গভর্নরের কাছে অনলাইনে পিটিশনও জমা দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ভার্জিনিয়ার ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের সামনে একই দাবিতে বিক্ষোভ করেছে অন্তত তিনটি দল। ‘স্টে অ্যাট হোম’ অমান্য করে শুক্রবারও জড়ো হয়েছিল তারা। তাদের অনেকেই মাস্ক-গ্লাভস না পরেই বিক্ষোভে অংশ নেন।

এদিকে, লকডাউন-বিরোধীরা বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মালিকানাধীন স্থাপনাগুলোর সামনেও। শনিবার শিকাগোতে এমন একটি ভবনের সামনে বেশ কয়েকটি প্রতীকী বডিব্যাগ রেখে বিক্ষোভ করে একটা দল। আরেকটি দল নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে নকল বডিব্যাগ রেখে বিক্ষোভ করেছে। ব্যাগগুলোর ওপর ‘করোনায় মৃত ১০০০+ স্বাস্থ্যকর্মীর স্মরণে’ বা ‘ইমিগ্রেশন বিভাগের হেফাজতে মৃত অভিবাসীদের স্মরণে’- এ জাতীয় স্লোগান লেখা ছিল।

সূত্র: ডেইলি মেইল, ১৯ এপ্রিল ২০২০

বিশ্বে সাড়ে ১১ কোটি মানুষ করোনায় সংক্রমিত: মার্কিন গবেষণা

গোটা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে পিলে চমকানো তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক দল গবেষক।

তাদের দাবি, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ লাখ বলা হলেও এ সংখ্যাটি কম করে হলেও ১১ কোটি ৫০ লাখ। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

আসলে বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জনস হোপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় বা ওয়ার্ল্ডোমিটার আমাদের যে পরিসংখ্যান দেয়, আপাতদৃষ্টিতে আমরা সেটিকেই করোনায় আক্রান্ত বা মৃতের প্রকৃত হিসাব বলে ধরে নিই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, অনেকের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত হলেও তার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি, অর্থাৎ তিনি অসুস্থ হননি। ফলে তার হাসপাতালে যাওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি, পরীক্ষা না করায় রোগীর হিসাবের মধ্যেও তিনি আসেননি।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এই গবেষণাপত্র শুক্রবার প্রকাশিত হলেও তা এখনও বিশেষজ্ঞদের দ্বারা মূল্যায়িত হয়নি।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টির ৩ হাজার ৩৩০ ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এ গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা চেয়ে ৫০ থেকে ৮৫ গুণ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ক্যালিফোর্নিয়াতেই, এখন অবশ্য নিউইয়র্কসহ পূর্বাঞ্চলই বেশি বিপর্যস্ত।

ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৩০ হাজারের মতো, এর মধ্যে সান্তা ক্লারায় সরকারি হিসাবে আক্রান্ত ১ হাজার ৮৭০ জন, তার মধ্যে ৭৩ জন মারা গেছেন। তবে গবেষণাটি যখন চালানো হয়, তখন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজারের মতো, আর মারা গিয়েছিলেন ৫০ জন।

স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের দাবি, সান্তা ক্লারায় আসলে ৪৮ হাজার থেকে ৮১ হাজার মানুষের দেহে নতুন এই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে, যা শনাক্ত সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

তা হলে তারা অসুস্থ নন কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মানবদেহের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা অ্যান্টিবডির কথা বলছেন এ গবেষকরা, যা পরীক্ষা করেই তারা বিপুলসংখ্যকের আক্রান্ত হওয়ার দাবি করছেন।

যে কোনো রোগপ্রতিরোধের ব্যবস্থা মানুষের দেহে সবসময়ই কার্যকর থাকে। মানুষের দেহে যখন বাইরে থেকে অচেনা কিছু প্রবেশ করে, শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি তাকে ক্ষতিকর সন্দেহ করে, তখন তা ঠেকাতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সেই অ্যান্টিবডি তখন নির্দিষ্ট ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। এই লড়াইয়ে জীবাণু জিতলে মানুষ অসুস্থ হয়।

এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয় বলেই প্রতিনিয়ত নানা রোগ-জীবাণুর মধ্যে থেকেও মানুষ অসুস্থ না হয়ে সচল থাকে। তবে যার প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়, তিনি অসুস্থ হন।

স্টানফোর্ডের এ গবেষক দল সান্তা ক্লারার বাসিন্দাদের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পরীক্ষা করে রোগীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বক্তির মধ্যে তা দেখতে পেয়েছেন। অর্থাৎ কোনো না কোনো পর্যায়ে তাদের দেহেও ভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছিল, কিন্তু সুবিধা করে উঠতে পারেনি বলে তাদের হাসপাতালে যেতে হয়নি।

এর ভিত্তিতে তারা বলছেন, নতুন করোনাভাইরাস (সার্স সিওভি-২) সার্স কিংবা মার্সের চেয়ে ভয়ানক অবস্থা তৈরি করলেও যে মাত্রায় ভয়ঙ্কর বলা হচ্ছে, আসলে ততটা না।

যেমন এখন শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশ বলা হলেও অশনাক্ত ব্যক্তিদের হিসাবে ধরলে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ১২ থেকে শূন্য দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসবে।

শুধু জেলার মতো একটি এলাকায় এ গবেষণা চালিয়ে এলেও বড় এলাকাজুড়ে একই গবেষণা চালালে একই ফল আসবে বলে মনে করেন স্টানফোর্ডের গবেষক দল।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইতোমধ্যে ১০ হাজার মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক এরন বেনডেভিড গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা মহামারীর কোন পর্যায়ে আছি, তা বুঝতে এ গবেষণাটি একটি পথ দেখাবে।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এখন যে অবরুদ্ধ অবস্থা চলছে যুক্তরাষ্ট্রে, তা তোলার যে দাবি উঠছে দেশটিতে, এই গবেষণা তার পালে হাওয়া দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বার্তা কক্ষ,১৯ এপ্রিল ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের মানুষের পাশে মুসলিম দম্পতি

করোনাভাইরাস মহামারিতে যুক্তরাজ্যে কয়েক ডজন মেডিকেল কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। পারসোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুয়িপমেন্টসহ (পিপিই) অন্যান্য সুরক্ষা উপকরণের অভাবে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। করোনা পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের মানুষের পাশে মুসলিম দম্পতি পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে oরীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা নয়, বরং মহানুভবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আসিয়াহ ও তার স্বামী জাওয়াদ।

সকাল ৯টা বাজেনি, তার আগেই আসিয়াহ জাভেদের মুদি দোকানের বাইরে লম্বা লাইন লেগে গেছে। তাদের বেশিরভাগই শ্রমিক ও ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার সার্ভিসের (এনএইচএস) কর্মী। সবাই অপেক্ষায় আছেন, কখন তাদের হাতে বিনামূল্যে হ্যান্ডস্যানিটাইজার-গ্লাভস তুলে দেয়া হবে।

৩৪ বছর বয়সী আসিয়াহ বলেন, ‘আমরা ভাবলাম মাস্ক বিক্রির বদলে সেগুলো এনএইচএসে দান করাই ভালো। কারণ তাদেরই সেগুলো বেশি দরকার, তারা মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাস্কের অভাব থাকায় মেডিকেল কর্মীরা টাকা দিতে চাচ্ছিল, কিন্তু আমি তাদের বললাম, কোনো দরকার নেই। তারা খুবই ভালো কাজ করছে। আমরা তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে পারি না।’

মার্চে লকডাউন আরও জোরদার হলে আসিয়াহ একদিন দেখেন, এক বৃদ্ধা একটি সুপারমার্কেটের বাইরে কাঁদছেন। কারণ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের সামর্থ্য ছিল না তার। সেই সময়ই এ স্কটিশ দম্পতি সিদ্ধান্ত নেন, তারা নিজেদের সঞ্চয় থেকে পাঁচ হাজার পাউন্ড দিয়ে মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে যাদের সেগুলো দরকার তাদের মধ্যে বিতরণ করবেন।

সেই থেকে গত চার সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের ফলকির্ক শহরের এ দুই মহানুভব মানুষ অন্তত তিন হাজার পিস মাস্ক, এক হাজারেরও বেশি খাবারের পাকেট বিতরণ করেছেন।

করোনা মহামারির কারণে চাকরি হারিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অসংখ্য মানুষ। আসিয়াহদের অনেক ক্রেতাই পরিবারের জন্য ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতে পারছেন না।

জাওয়াদ বলেন, ‘‘আমরা যখন খাচ্ছি, তখন তারা কেন অভুক্ত ঘুমাবে? এ কারণে আমরা ফেসবুকে ঘোষণা দেই, বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করব। এরপর থেকে অন্তত দুই-তিনশ’ কল পেয়েছি আমরা।’’

ফলকির্ক শহরে ৫৪ বছর ধরে রয়েছেন উইলিয়াম ওয়েলশ। এ বৃদ্ধ জানান, একদিন তার কাছে হ্যান্ডস্যানিটাইজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে এসেছিলেন জাওয়াদ। সেদিন তাকে ‘আসসালামু ওয়ালাইকুম’ বলে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি।

উইলিয়াম বলেন, ‘জাওয়াদের বিষয়ে যা-ই বলি তা যথেষ্ট হবে না। সে কয়েক সপ্তাহ ধরে এই কাজ করছে। সে যা করছে তা মানুষ কখনোই ভুলবে না, বিশেষ করে বয়স্করা।’

গ্লাসগো কেন্দ্রীয় মসজিদের মহাসচিব ইরফান রাজ্জাক বলেন, ‘যেকোনও সময়ে চেয়ে এখন দুর্দশাগ্রস্তদের আরও বেশি সহযোগিতা দরকার। মসজিদের পক্ষ থেকে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থীসহ অন্যদেরও সাহায্য করা হচ্ছে। আমরা কারও ব্যকগ্রাউন্ড দেখে নয়, বরং যার যা সাহায্য দরকার, তা পূরণের চেষ্টা করছি, কাউকেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না। অমুসলিমদের কাছ থেকেও অনেক কল পাচ্ছি, বিশেষ করে বয়স্কদের। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে এক হয়েই একে অপরের সহযোগিতা করতে হবে।’

সূত্র: আল জাজিরা