সংবাদটি কপি করা উচিত হবে না। অনুমতি পেতে মেইল করতে পারেন news@chandpurtimes.com

Home / উপজেলা সংবাদ / চাঁদপুর সদর / আর কতো ক্ষতি হলে বন্ধ হবে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের অবৈধ বালুর ব্যবসা
bagra-barzar-chant

আর কতো ক্ষতি হলে বন্ধ হবে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের অবৈধ বালুর ব্যবসা

চাঁদপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বাঘড়া বাজার অংশে রাস্তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করে আসছেন কিছু লোক । এ কারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

এরইমধ্যে সেখানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানিও হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও জীবনঘাতি অবৈধ বালুর ব্যবসা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগড়া বাজারে রাস্তার পাশে পৃথক স্থানে বিশাল বালুর স্তুপ। সেখানে বালু বেচাকেনা চলছে। নৌপধে ছোট ছোট জাহাজে করে এসব বালু বাগড়া বাজারে রাস্তার ওপরে নামানোর পর ট্রাকে করে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী,
ফরিদগঞ্জসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

বালুর স্তুপ ও বালুবাহী ট্রাক থেকে বালু উড়ে যাচ্ছে। পথচারী ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের চোখে-মুখে গিয়ে পড়ছে।

চাদপুর মডেল ধানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ মে ভোরে বাগড়া বাজারে একটি বালুবাহী ট্রাকের ধাকায় সিএনভিচালিত অটোরিক্সা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে হতাহত হয়েছে কয়েকজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি) একজন সদস্য বলেন, বাজারটি টাদপুর সদরের বাগাদী ইউপি ও বালিয়া ইউনিয়ন অন্তর্গত। এই বালুর ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে একটি মহল। এতে পথচারী ছাড়াও ওই এলাকায় বসবাসরত লোকজনের ক্ষতি হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেউই।

সদর উপজেলার বাগাদী ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন গাজী বিল্লাল বলেন, আমরা দেখছি, অনেক দিন ধরে স্থানীয় কিছু
ব্যক্তি এই বালুর ব্যবসা করে আসছেন। এতে অন্যদের সমস্যা হচ্ছে কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে আমাদের কিছু করার নেই!”

প্রতিদিন এই বালুর অত্যাচানে স্থানীয়রা চোখে-মুখে কাপড় দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বা উড়ে আসা বালু পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তা ছাড়া পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাগাদী আহমদীয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীও এই বালুর সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ করছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে এখনো কোনো কথা বলিনি।”

একটি সূত্র জানায়, সরকারি সম্পত্তি দখলে রেখে এরা বালির ব্যবসা করে যাচ্ছে। বাঘড়া বাজার এলাকার বালি ব্যবসায়ীরা সড়ক ও সরকারি সম্পত্তি দখল করে রমরমা ব্যবসা করে গেলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু বলছে না। এরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

এমনকি পূর্বে বাঘড়াবাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কটি কেটে সমান করে সেখানে বালু উঠিয়ে রাখছে। বালির সাথে ওঠা পানি গড়িয়ে পড়ে সড়কের অপর পাশে যাচ্ছে। আর এ সকল পানির উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করার সময় পানির ছিটা গিয়ে মানুষজনের গাড়ে পড়ছে। এমনকি পানি গড়িয়ে গিয়ে সড়ক ভেঙ্গে দেবে যাচ্ছে। বাঘড়াবাজার এলাকার এ স্থানটি এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাগাদী এলাকার বালু ব্যবসায়ী আলম বলেন, ৩ বছর ধরে এখানে ছয়জন পৃথকভাবে এই বালুর ব্যবসা করে আসছি। স্থানীয় ইউপি থেকে ট্রেড লাইসেন্স করে এ ব্যবসা শুরু করি। তবে লোকজনের যেন ক্ষতি না হয়, সেতাবে ব্যবসা করার চেষ্টা করছি।’

বার্তা কক্ষ, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯