Home / চাঁদপুর / দোল উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক: অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম
দোল

দোল উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক: অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম

চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী গোপাল জিউর আখড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিমূলক পরিবেশে ৪০ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও ১২৪তম বার্ষিক দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৮টায় আখড়া প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে এই ধর্মীয় মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তবৃন্দ নামসংকীর্ত্তন, প্রার্থনা ও ভজন-সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। গোপাল জিউর আখড়ার এই দোল উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি আমাদের সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সবাইকে এই ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুরের এমপি সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুতে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করে সব ধর্মের মানুষই বাংলাদেশী। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনা ধারণ করেই আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ায়।

গোপাল জিউর আখড়ার সভাপতি অভিজিত রায় এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাপী পাল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা, গোপাল জিউর আখড়ার দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সাহাসহ স্থানীয় সুধীজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মন্দির প্রাঙ্গণে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় ভক্তিমূলক পরিবেশে মহানাম সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা নামকীর্তন, প্রার্থনা ও ভজন-সঙ্গীতে অংশ নেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১২৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দোল উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছরই ব্যাপক আয়োজন করা হয়। ৪০ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ এবং ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তবৃন্দ কয়েকদিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন। মন্দির প্রাঙ্গণে আগত ভক্তদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজক কমিটি যৌথভাবে কাজ করছে।

ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। ভক্তদের পদচারণা, নামসংকীর্ত্তনের ধ্বনি এবং ধর্মীয় আবহে গোপাল জিউর আখড়া এখন পরিণত হয়েছে এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়।

চাঁদপুরের এই ঐতিহ্যবাহী দোল উৎসব স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করেন আয়োজক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

স্টাফ রিপোর্টার/
৬ ডিসেম্বর ২০২৬