Home / উপজেলা সংবাদ / হাজীগঞ্জ / হাজীগঞ্জে বাবার লাশের সামনে বোনদের ওপর হামলা চালায় দুভাই
বাবার

হাজীগঞ্জে বাবার লাশের সামনে বোনদের ওপর হামলা চালায় দুভাই

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বাবার লাশের সামনে দেখতে আসা ৫ বোন ও তাদের পরিবারের উপর হামলা চালায় আপন দুই ভাই। গত রবিবার (১ মার্চ) রাতে পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই সর্দার বাড়িতে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানাযায়, মৃত হাসেম সর্দার (৭০) খাটরা বিলওয়াই সর্দার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। গত ১ মার্চ রবিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও পাঁচ কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে হাসেম সর্দার তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি অংশ মেয়েদের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে ছেলে ফারুক হোসেন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তি বণ্টনে নিজেকে বঞ্চিত দাবি করে তিনি বাবার লাশ দাফনের প্রস্তুতিতে বাধা দেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দাফন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং পারিবারিক বিরোধ দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়, তবে এমন সংবেদনশীল সময়ে বাবার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা বিষয়টির দ্রুত সামাজিক ভাবে বসে সমাধান কামনা করেন।

জানাযায়, ঘটনার সময় লাশ বাধা দেয় ছেলে লিটন ও ফারুক, জেঠাত ভাই হানিফ, মোশাররফসহ কয়েকজন। তাদের অভিযোগ মৃত হাসেম সর্দারের মেয়ে সালমা ও রেহানার কাছে ১২ শতাংশ ভূমি সাব কবলা দলিলে বিক্রি করেছে। তাছাড়া বাবার ওয়ারিশ সম্পত্তি চার বোনে মিলে ৯ শতাংশ ভূমি তিনি দানপত্র করে যান।

মৃত্যুর খবর শুনে পাঁচ মেয়ে রাহিমা বেগম, রেহানা বেগম, সেলিনা বেগম, জোসনা বেগম ও সালমা বেগম এবং জামাতা সালাউদ্দিন তারেকসহ আত্নীয় স্বজনরা ছুটে যান। তাদেরকে দেখে বাবার লাশের সামনে ছেলে ফারুক ও লিটনের সন্তানরা জেঠাত ভাই হানিফ, মোশাররফসহ কয়েকজন মিলে তাদের উপর ছড়ো হয়ে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে রক্ষা করে।

মৃত হাসেম সর্দার চতুর্থ জামাতা সালাউদ্দিন তারেক বলেন, আমার শশুরের কাছ থেকে ৫নং মেয়ে সালমা ৭ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তার দুই ছেলেকে সমান ভাবে পুরান বাড়ির সাড়ে ৯ শতাংশ সম্পত্তি দিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার দুই সমত ভাই লিটন ও ফারুক শশুর শাশুড়ীর বরণ পোষন চালায় নাই। শেষ সমাধিতে এসে তারা বাপের লাশ সামনে রেখে আমাদের উপর হামলা চালায় যা সামাজিক ভাবে হ্যয় প্রতিবন্ধকতার শামিল। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা জীবন ফিরে পেয়েছি। আমরা এ ঘটনায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

মৃত হাসেম সর্দারের ছেলে ফারুক হোসেন বলেন, আমার বাবা জীবিত অবস্থায় কৌশলে বোনেরা সম্পত্তি নিয়ে যায়। আমরা দুই ভাই এতে বঞ্চিত হয়েছি। তাই বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে বাবার লাশের সামনে কিছুটা হট্রোগল হয়েছে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা এমন ঘটনা শুনে উভয় পক্ষকে শান্ত করে লাশ দাফনে সহযোগিতা করেছি। সেই সাথে বলেছি কাহারো কোন অভিযোগ থাকলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে। তাহলে চেষ্টা করবো তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির অবসান করার।

প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়/
৩ মার্চ ২০২৬