Home / চাঁদপুর / আজ রাত ১২ টা থেকে নদ-নদীতে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ
ELISH-

আজ রাত ১২ টা থেকে নদ-নদীতে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ

চাঁদপুরসহ দেশের অন্যান্য নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে আজ মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আগামি ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও আশ্বিনের পূর্ণিমা লক্ষ্য রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এ সময়ে দেশে ইলিশ আহরণ,ক্রয়-বিক্রয়,পরিবহন ও মজুদ পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

বুধবার ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরসহ দেশে ৬ টি ইলিশ বিচরণক্ষেত্রে ২২ দিন ইলিশ ধরা সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।

সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন,‘এ সময়ে মা ইলিশ ডিম পাড়ে। এ সময়ে ডিম পাড়ে ৮০% ইলিশ। আর এ ডিম পাড়ে মূলত:মিঠা পানিতে। তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার ৪ দিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন এ ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীর মোহনাসহ যে সব জেলার নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়,সেখানে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।’

পাশাপাশি ইলিশের আহরণ,পরিবহন,মজুত,বাজারজাতকরণ,ক্রয়-বিক্রয়ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। অতীতের চেয়ে এবার কঠিন অবস্থানে থাকবে প্রশাসন ও ট্রাস্কফোর্স। মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের ৭ হাজার কি.মি.নদী এলাকায় ৬টি অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এর আয়তন ৪শ ৩২ কি.মি । মূলত: ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতেই এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তা্ই এ সময়ে নদীতে সকল প্রকার মাছ আহরণ বন্ধসহ মা ইলিশ ও জাটকা ইলিশ আহরণ,বিক্রয়, বিপনন,মজুদ কিংবা বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২০১৮ সালের গবেষণায় আরো একটি ইলিশের আবাসস্থল সরকার ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে ইলিশের অভয়াশ্রমের সংখ্যা এবার দাঁড়ালো ৬ টি। ফলে দেশের ইলিশ অভয়াশ্রমের ব্যাপ্তি বা দৈর্ঘ্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ। শুধু ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। তবে অন্য মাছ শিকারের নামে নদী-সাগরে নেমে কেউ যাতে ইলিশ ধরতে না পারে, সেজন্য জেলেদের নদী-সাগরে নামতেই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এ নিষেধাজ্ঞা শুরুর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের ইলিশ মৌসুম। ৩০ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষে জাটকা (১০ ইঞ্চির কম আকারের ইলিশ) নিধনে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ১ নভেম্বর। যা শেষ হবে ৩০ জুন। মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য অধিদপ্তর কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ সম্পর্কে চাঁদপুরে ৩১ বছর ধরে ইলিশ গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র চাঁদপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.আনিসুর রহমান বলেন,‘২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মা ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্যে ১১ দিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে এবছর পর্যন্ত ২২ দিন করার প্রস্তাব হলে মন্ত্রণালয় তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যা গবেষণালদ্ধ ফলাফলের কারণে করা হয়েছে। যার ফলেই ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়েই বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি আরো বলেন,‘চাঁদপুরসহ অন্যান্য জেলার ট্রাস্কফোর্স,সাংবাদিক ও মৎস্য বিভাগীয় কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধিগণ ও সংশ্লিষ্ঠ জেলেদেরও এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ ভূমিকা থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে। এ জন্যে সংশ্লিষ্ঠ সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্ত ড.আনিসুর রহমান এ বছরে ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মৎস্য বিভাগের সিদ্ধান্ত মতে ইলিশ বিচরণকারী এলাকায় ট্রাস্কফোর্সের মধ্যে রয়েছে-জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সকল ঊর্ধতন কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা,নৌ-পুলিশ,কোস্টগার্ড,কোনো কোনো ইলিশ অঞ্চলে নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করে অবরোধ চলাকালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। দেশের সব অভয়াশ্রমে কোনো অবস্থাতেই অবরোধ চলাকালে ছাড় দেয়া হবে না এমনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন ,‘বিগত ক’বছরের ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ,আহরণ ও সংখ্যাবৃদ্ধি , অভয়াশ্রমের সংখ্যা ও আয়তন বাড়ানোই এর ফলাফল। মেঘনা ও পদ্মা ছাড়াও এখন যমুনা,মধুমতি,চিত্রা ,নবগঙ্গা, কুশিয়ারা ও আড়িঁয়াল খাঁ পর্যন্ত ইলিশ বিচরণ আবার শুরু করেছে। প্রতিদিন ডিম ছাড়ার মুহুর্তে ইলিশ প্রায় ৭২ কি.মি পর্যন্ত বিচরণ করতে সক্ষম। ইলিশের এ সময় এফআরআই’র গবেষকগণ দেশের প্রতিটি অভয়াশ্রমে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। গত বছর ৪৮ % শত্যাংশ ডিম রক্ষায় প্রায় ৩,৬৪২ হাজার কোটি জাটকা অভয়াশ্রমগুলোতে নুতনভাবে ইলিশের কাতারে যোগ হয়েছে। যার ফলে এবার ইলিশের প্রাচুর্যতা লক্ষ্য করা গেছে ।

চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড.আনিসুর রহমান জানান,ইলিশ সারা বছর ডিম দিলেও ৭০-৮০ ভাগ ইলিশ ডিম ছাড়ে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমায়। এ সময়ে ডিম ছাড়ার জন্য মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে মিঠাপানির নদীতে চলে আসে। চলতি বছর ১৩ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্ণিমা। পূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে প্রবেশের সময় এবং পূর্ণিমার পরে নদী ছেড়ে সাগরে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের জালে মা ইলিশ ধরা পড়ে। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্নে করতে পূর্ণিমার আগে চার দিন এবং পরে ১৭ দিন,২২ দিন ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী ইলিশের মূল উৎপাদন কেন্দ্র ৬ টি অভয়াশ্রম হচ্ছে- উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দী,দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া-গন্ডমারা পয়েন্ট,উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট, দক্ষিণ পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী পয়েন্ট এবং বরিশালের আড়িয়ালখাঁ, নয়াভাঙ্গুনী ও কীর্তনখোলার আংশিক।

ইলিশ অভয়াশ্রমের বেশিরভাগ চাঁদপুর,বরিশাল,ভোলা,পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলা সংলগ্ন নদ-নদীগুলো। তাই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বরিশাল বিভাগ ও চাঁদপুর জেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রান্তিক পর্যায়ে তারা জেলে, ইলিশের আড়তদার ও জনপ্রতিধিদের নিয়ে দফায় দফায় জনসচেতনতামূলক সভা ও নদী পাহারায় কমিটি গঠন করেছেন। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্স
।২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানার উৎসাহ দিতে জেলে অধ্যুষিত ২২ জেলায় ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯ জন কার্ডধারী জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। শুধু ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। তবে অন্য মাছ শিকারের নামে নদী-সাগরে নেমে কেউ যাতে ইলিশ ধরতে না পারে, সেজন্য জেলেদের নদী-সাগরে নামতেই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এ বছর ২২ দিন নিষেজ্ঞা সম্পর্কে চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান ইলিশ গবেষক ড.আনিসুর রহমান বলেন,‘ইলিশ সারা বছর ডিম দিলেও ৭০-৮০ ভাগ ইলিশ ডিম ছাড়ে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমায়। এ সময়ে ডিম ছাড়ার জন্য মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে মিঠাপানির নদীতে চলে আসে। চলতি বছর ১৩ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্ণিমা। পূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে প্রবেশের সময় এবং পূর্ণিমার পরে নদী ছেড়ে সাগরে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের জালে মা ইলিশ ধরা পড়ে। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে পূর্ণিমার আগে চার দিন এবং পরে ১৭ দিন,২২ দিন ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’

মৎস্য বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী ইলিশের মূল উৎপাদন কেন্দ্র ৬ টি অভয়াশ্রম হচ্ছে- উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দী, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া-গণ্ডমারা পয়েন্ট,উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট,দক্ষিণ পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী পয়েন্ট এবং বরিশালের আড়িয়ালখাঁ, নয়াভাঙ্গুনী ও কীর্তনখোলার আংশিক।

ইলিশ অভয়াশ্রমের বেশিরভাগ চাঁদপুর,বরিশাল,ভোলা,পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলা সংলগ্ন নদনদীগুলো। তাই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বরিশাল ও চাঁদপুর জেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী- দেশে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ৪ লাখ ৯৬ হাজার মে.টন এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার মে.টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। প্রতি বছরই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। আর চলতি বছর ইলিশের উৎপাদন আরও বেশি হবে।

আবদুল গনি,৮ অক্টোবর ২০১৯ ।