হাইমচর

হাইমচরে মেঘনার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এখনো ত্রাণ পৌঁছেনি

স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে মেঘনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাইমচর উপজেলার ৫নং হাইমচর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ ও তার আশে পাশের এলাকায় মেঘনার ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

ভাঙ্গনের শিকার হয়ে কিছু পরিবার গুচ্ছ গ্রাম কিংবা আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাই নিলেও হুমকির মুখে রয়েছে হাজারো পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন ত্রান সামগ্রী পৌঁছেনি।

গত কয়েকদিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পশ্চিমপাড় ৫নং হাইমচর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ ও ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২টি মৎস্য আড়ত ও প্রায় সহ¯্রাধিক ঘর বাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে মসজিদ মাদরাসা বাজার সহ সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি নি¤œ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ও অসংখ্য পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় সাহেবগঞ্জ ও ইশানবালা মেঘনার অথই পানিতে তলিয়ে যাবে।

ভাঙ্গন কবলিত মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ঐসব এলাকা গুলোতে বিশুদ্ধপানির অভাবসহ শুকনো খাবার ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদার যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে।

সাহেবগঞ্জ বাজার কিংবা তার আশপাশের এলাকাগুলোতে ভাঙ্গন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলেও ঈশানবালায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে বালি ভর্তি ১লাখ ৪২ হাজার জিও টেক্সটাইল ব্যাগ পালানোর কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে খুব সহসাই নদী ভাংতি পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রান সামগ্রী পৌছে দেয়া হবে।

উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রশিদ জানান আমাদের দপ্তরে পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী পৌছে দেয়া হবে।

৪নং নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন সরদার বলেন ‘এ বর্ষায় ঈশানবালায় ব্যাপক ভাঙ্গন চলছে। ইতিপূর্বে ঘর বাড়িসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।

ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকার আন্তরিক থাকলেও ঠিকাদারের গাফলতির কারনে ভাঙ্গন প্রতিরোধের কাজ না হওয়ায় ব্যাপক ভাঙ্গন চলছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে এখনো ত্রান সামগ্রী এসে পৌঁছেনি।

৫নং হাইমচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত সরকার জানান জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাহেবগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকায় মেঘনার ভাঙ্গন চলছে। আমি এ ব্যাপারে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি এবং ক্ষতি গ্রস্থ পরিবারের তালিকা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। আশাকারি তালিকা প্রস্তুতির পরপরই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ত্রান সামগ্রী পাবে।

About The Author

প্রতিবেদক- বি এম ইসমাইল, হাইমচর
Share