চাঁদপুর সদর

চাঁদপুরে সরকারি খাল ভরাট করে প্লট বিক্রি করছে সংঘবদ্ধ চক্র

চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড আনন্দ বাজার এলাকায় রাজ্জাক মাষ্টারের বাড়ির সামনে সরকারি পাকা ঘাটলা,বহু বছরের পুরনো খাল ও ফসলি জমি ভরাট করে প্লট বিক্রি করছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি ঘাটলাটি বালুর নিচে চাপা পড়ে আছে ও সরকারি খালটি বালি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এ খালটি দিয়ে আবাদি জমির সেচের পানি, জলবদ্ধতা নিরসনে ব্যবহার হয়ে আসছিলো। আনন্দবাজার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এটি এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্লট নির্মাণের জায়গায় গত ৫ বছর পূর্বে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ এর বরাদ্দে খালটির পানি ব্যবহার করার জন্য স্থানীয় লোকদেরকে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পাকা ঘটলা নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু সংঘবদ্ধ চক্রটি সরকারি সম্পত্তি, ঘাটলা ও ফসলি জমি একই সাথে ড্রেজারের বালু দিয়ে ভরাট করেছে। ভরাট ও প্লট তৈরীর কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইয়াছিন বেপারী, মনির খন্দকার, মারুফ সরদারসহ বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আম্বিয়া বেগম ও জাহানারা জানান, সরকারি বরাদ্দে পাকা ঘটলা থাকার সময় শতাধিক পরিবার গোসল, জামা কাপড় পরিস্কারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করত। গত ৬ মাস আগে এটি খালসহ ঘাটলিটি ভরাট করার কারণে এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয় এবং চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে এসব পরিবার। যার কারণে বহুদুর হেটে মেঘনা নদীতে গিয়ে লোকজন গোসলসহ অন্যান্য কাজ করতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা জানান, আমাদের এলাকার এই খালটি অনেক পুরানো। এখানে যখন পানি প্রবাহিত ছিলো, তখন এপার-ওপারবাসীর চলাচলের জন্য একটি ব্রিজ বরাদ্দ আসে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন তাদের প্লটের ব্যবসা করতে গিয়ে খাল, ঘাটলা ও ফসলি জমি ভরাট করায় বরাদ্দকৃত ব্রিজটির নাম কেটে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আমির ছৈয়ালের বাড়ির সামনে নির্মাণ হয়।

ইউপি সদস্য আরো জানান, যখন খালটি ভরাট হয়, তখন বিষয়টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করানো হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সরকারি সম্পত্তিতে পিলার দিয়ে নির্দিষ্ট সীমানা দিয়ে আসেন।

ভরাট কাজে অভিযুক্তদের মধ্যে ইয়াছিন বেপারী জানান, তারা তাদের নিজস্ব জায়গা ভরাট করেছেন। সরকারি কোন জায়গাই তারা ভরাট করেননি।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা শাহনাজ বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। এখন যেহেতু জানতে পেরেছেন সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেট,২৯ এপ্রিল ২০২১

Share