শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রস্তুতের নির্দেশ

পবিত্র রজমান মাস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করারও নির্দেশ দেয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের।

বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এ নির্দেশনা জারি করে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক,উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অনুরোধ জানানো হয়।

নির্দেশনাপত্রে বলা হয়,পবিত্র রজমান মাস উপলক্ষে বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২৩ মার্চ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পর কয়েকটি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

নির্দেশনাগুলো হলো—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা; নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সম্প্রতি গৃহীত প্রশিক্ষণ হতে লব্ধ জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ; নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশিত দায়িত্ব অনুসরণ; অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা; নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; কারিকুলাম অনুযায়ী শিখন কার্যক্রম স্কুল বন্ধকালীন নিরবচ্ছিন্ন রাখা।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ পালনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফদতর নতুন করে আদেশ জারি করেছে। বৃহস্পতিবারের (১৩ এপ্রিল) নতুন আদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। বুধবার ১২ এপ্রিলে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্বের কালচারাল হেরিজেট হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে নববর্ষ পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

ওই আদেশে বলা হয়েছিলো— নববর্ষ ১৪৩০ উদযাপন অনুষ্ঠান আবশিকভাবে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু করতে হবে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরে নববর্ষ উদযাপন করবে। ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্বের গুরুত্বপুর্ণ ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ এর তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করতে হবে। সকালে আবশ্যিকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঠে র‌্যালি করতে হবে।

এ আদেশ জারির পর বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর নতুন করে আদেশ জারি করে। এ আদেশে বলা হয়, নববর্ষ ১৪৩০ উদযাপন অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ গান পরিববেশনের মাধ্যমে শুরু করতে হবে। অনুষ্ঠানে পবিত্র রমজানের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে হবে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রমেজানের পবিত্রতা রক্ষা করে ধর্মীয় অনুভূতি বজায় রেখে যথাযথ আড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে।

প্রসঙ্গত,সংস্কৃতি সন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত গত ১৮ মার্চের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৪ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলা নববর্ষ পালনের নির্দেশ দিয়েছিল।

১৩ এপ্রিল ২০২৩
এজি

Share