শাহরাস্তিতে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় হাজেরা বেগম (৪২) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে বারবার অনুরোধ করেও রোগীকে দেখাতে পারেননি তারা, এ সময় চিকিৎসক নিজের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন বলে দাবি তাদের।
হাজেরা বেগম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির বাসিন্দা ও আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে রোগীকে দেখতে অনুরোধ করেন। তবে চিকিৎসক রোগীর কাছে না এসে নিজের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, অনুরোধের পর চিকিৎসক রোগীকে বেড থেকে কাঁধে করে তার কক্ষে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এ সময় রোগীর স্বামী আক্তার হোসেন একার পক্ষে স্ত্রীকে কাঁধে করে চিকিৎসকের কক্ষে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। পরে চিকিৎসক রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে স্বজনদের দাবি।
এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহিলা ওয়ার্ডেই হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়।
হাজেরা বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগীনিকে দেখতে আসেননি। তিনি রোগীনিকে দেখে চিকিৎসা দিলে এ ঘটনা ঘটত না।’
এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের বক্তব্য নিতে বাধা দেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার। তিনি নিজেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দাবি করে বলেন, চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলা সংক্রান্ত রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সব বিষয়ের দায় তিনি নেবেন এবং চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সব ধরনের বক্তব্য তিনিই দেবেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ডা. জয়ন্ত মালাকার বলেন, ওই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। লিভারের জটিল রোগীর চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্ভব নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসক সময়মতো দেখেছেন কি না এবং স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য কী—তা সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল মুঠোফোনে বলেন, ‘কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক: মোঃ জামাল হোসেন/
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬