শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে অসাধু উপায়ে মাছ নিধন

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রশাসনের তদারকির অভাবে ডাকাতিয়া নদীতে অভিনব উপায়ে মাছ নিধন, বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী দেশীয় প্রজাতির মাছ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা। অথচ চাঁদপুরের প্রাণ খ্যাত ডাকাতিয়া নদী একসময় এ অঞ্চলের মাছের চাহিদা পূরণে মূল ভূমিকা পালন করত। রুই, কাতলা, মৃগেল, কই, শিং, পুঁটি, মাগুর, চিংড়ি, মলা ও ঢেলাসহ নানা প্রজাতির মাছে একসময় সয়লাব থাকতো স্থানীয় হাটবাজারগুলো। নদীটি ছিলো দু’পাড়ের মানুষের প্রধান জীবিকার উৎস।

তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের তদারকির অভাবে এবং একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তির ক্ষতিকর পন্থায় মাছ শিকারের কারণে নদীটি এখন মৎস্যশূন্য হতে বসেছে। সরেজমিনে ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায় অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি (রিং) জালের অবাধ ব্যবহার। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো-গভীর রাতে ইলেকট্রিক শক (তড়িৎ প্রবাহ) দিয়ে অসাধু উপায়ে মাছ শিকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারী জানান, রিং জালে রেণু ও পোনা মাছসহ ছোট-বড় সব মাছ আটকা পড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর ইলেকট্রিক শক দেওয়ার ফলে নির্দিষ্ট মাছের পাশাপাশি আশেপাশের ছোট-বড় অন্য সব জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দ্রুতই মাছশূন্য হয়ে পড়বে ঐতিহ্যবাহী এ নদী।

স্থানীয় মৎস্যচাষী জামাল হোসেন আফসোস করে বলেন, “নদীতে মাছের উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে, এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।”

নাহিদ মৎস্য আড়তের মালিক আক্তার হোসেন জানান, অবৈধ পন্থায় মাছ ধরার কারণেই নদী থেকে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

এদিকে, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিগত বছরগুলোতে অবৈধ জাল ও মৎস্য শিকারিদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান পরিচালিত হলেও, এ বছর সে ধরনের কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়েনি।

অভিযান না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে অচিরেই অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে মৎস্য দফতর অভিযান শুরু করবে।”

প্রতিবেদক: মোঃ জামাল হোসেন/
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬