মতলব উত্তর

লবণের দাম নিয়ে মতলবের বাজারগুলোতে লঙ্কাকাণ্ড

লবণের দাম বেড়েছে এমন গুজবে মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারে পড়েছে লবন বিক্রির হিড়িক।

লবণের দাম বেড়েছে এমন গুজবে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পড়েছে লবন বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। ‘লবণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতি কেজি লবন ১শ’ থেকে ১শ’২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে’ এমন গুজবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভিড় করে লবন ক্রয় করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে বেশি মুনাফার লোভে বাজারের কয়েকটি দোকানে লবণ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানিছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ছেংগারচর বাজারের জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ি জানান, লবনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এমন খবরে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা তার দোকানে লবন কিনতে ভিড় করেছেন। পূর্বের মূল্য অনুযায়ী লবন বিক্রি করেছেন বলে একদিনে এতো বেশি পরিমাণ লবন বিক্রি করেছেন যা দুই থেকে তিন সপ্তাহেও বিক্রি করা যেতো না।

আবুল হোসেন প্রধান নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সকাল থেকেই লবনে বিক্রি বেড়ে গেছে। লবনের জন্য ডিলারের সাথে যোগাযোগ করে লবন আনা হয়েছে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে।
অটোবাইক এর চালক মোহন মুফতি নামের এক ক্রেতা জানান, লোকের মূখে শুনেছেন লবণের দাম প্রতি কেজিতে বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির খবর শুনে সন্ধ্যা বেলা বাজারে গিয়ে ৫ কেজি লবন কিনেছেন। মফিজুল ইসলাম খান, নজরুল ইসলাম, আছমা আক্তার, সুশিল চন্দ্র দাস, তপন শীল, সোহেল, আবুল মুফতি, নুরুল ইসলাম, পেন্টু ঢালী’সহ একাধিক ক্রেতারা জানান, লোকের মূখে শুনেছেন লবণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাই পেঁয়াজের মতো করে লবনের জন্য যাতে ঝামেলা পোহাতে না হয় তাই আগেভাগেই লবন ক্রয় করে নিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, লবনের দাম বৃদ্ধির গুজবে বাজারের কতিপয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ি ইতোমধ্যে লবন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাছাড়া গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ক্রেতারা যখন লবন কিনতে বাজারে এসেছেন অধিকাংশ দোকানী চড়া দামে লবন বিক্রি করার লোভে ক্রেতাদের কাছে ২ কেজির বেশি লবন বিক্রি করেননি।

এ গুজব রোধে ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে মতলব উত্তর থানার ওসিস নাসির উদ্দিন মৃধা ছেংগারচর বাজারসহ কয়েকটি কাজারে তিনি নিজে মাঠে নেমে পড়েন। এ গুজবে কান না দেয়ের জন্য সর্বস্তরের জনগনের প্রতি অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, একটি বিশেষ কু-চক্রি মহল লবনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। গুজবে কান না দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, দ্রব্য মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি গতকাল এ গুজব প্রতিরোধে এবং ব্যবসসায়ীরা যাতে লবন অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে না পারেন তা প্রতিরোধে তিনি উপজেলার কিবভিন্ন পরিদর্শনে যান।

এদিকে লবণ নিয়ে সৃষ্ট গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লবণের মূল্য নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের চাষিদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, সারা দেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা কম-বেশি ১ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে লবণের মজুত আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসেবে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব ছড়াচ্ছে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। লবণ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে জানাতে ০২-৯৫৭৩৫০৫ ও ০১৭১৫-২২৩৯৪৯ কল করার জন্য বলা হয়েছে।

প্রতিবেদক : খান মোহাম্মদ কামাল, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

Share