মতলব উত্তরে লবাইরকান্দিতে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে এবং এলাকার মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ৫নং দূর্গাপুর ইউনিয়নের লবাইরকান্দি আল-আমিন আলিম মাদ্রাসা মাঠে লবাইরকান্দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ পূর্ণমিলনী ফুটবল খেলা।
৩০মে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় লবাইরকান্দি ভুইয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া যুবসমাজের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় অংশগ্রহণকারীদের দুইটি দলে বিভক্ত করা হয় বিবাহিত বনাম অবিবাহিত। ঈদ আনন্দ, উৎসাহ, প্রতিযোগিতা এবং সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। খেলাটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়া বন্ধু, বড় ভাই, ছোট ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি এবং সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি অনন্য উদ্যোগ।
মাঠের চারপাশে বিভিন্ন বয়সী শত শত দর্শকের উপস্থিতি খেলাটিকে উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ দেয়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও খেলাটি উপভোগ করতে মাঠে ভিড় জমান। খেলার শুরু থেকেই বিবাহিত দল নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে থাকে। খেলার শেষ হওয়ার ৫ মিনিট পূর্বে অবিবাহিত দল গোল পরিশোধ করে খেলায় সমতায় আনে। পরে খেলা গড়ায় শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্র্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে অবিবাহিত দল জয়লাভ করে। তবে জয়-পরাজয়ের বাইরে গিয়ে খেলাটি পরিণত হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক মিলনমেলায়।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে সমাজে মানুষ ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে পড়ছে নিজ নিজ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত নানা ব্যস্ততায়। ফলে আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব ও প্রতিবেশী সর্ম্পকের জায়গাগুলো আগের মতো দৃঢ় থাকছে না। সেই জায়গা থেকে ঈদ পূর্ণমিলনী ফুটবল খেলার মতো আয়োজন মানুষের মধ্যে আবারও ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌজন্যবোধ এবং সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রীতি ফুটবল খেলায় বক্তব্য ও ট্রফি বিতরণ করেন, সাবেক ফুটবলার মোঃ আঃ সাত্তার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্বাস উদ্দিন ভুইয়া, নুরুরজ্জামান ভুইয়া, শাহনূর আলম প্রমূখ।
খেলায় ছোট দল ও বড় দলের মধ্যে ১-১ গোলে সমতা হলে খেলাটি ট্রাইবেকারে ৪-৩ গোলে বড় দল (বিবাহিত) একাদশ অবিবাহিত দলকে পরাজিত করে জয়লাভ করে।
আয়োজক খেলোয়াড় হাসান মাহাবুব জানান, এই খেলার মূল উদ্দেশ্য ছিলো ঈদের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করা । এলাকার তরুণদের খেলাধুলামুখী ও ইতিবাচক কর্মকান্ড সম্পৃক্ত করা
মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকন্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা । বড়-ছোট সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা । দীর্ঘদিন পর প্রবাসী ও স্থানীয়দের একত্রিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা । সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা । স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা বহন করে। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য সৃষ্টি করে। মাঠে সবাই প্রতিদ্বন্দ্বি হলেও খেলা শেষে সবাই একে অপরের বন্ধু এটাই এমন আয়োজনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক/ ৩১ মে ২০২৬