হাইমচরে মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে লঞ্চঘাট

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরাঞ্চলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর ছোট হয়ে আসছে উপজেলার মানচিত্র। নদীতীরবর্তী এলাকা নীলকমল ও হাইমচর ইউনিয়নের হাজার-হাজার মানুষের ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে প্রতিদিন। দেখা যায় প্রতিবছর শত শত বসতভিটা ও ফসলি কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছন স্থানীয়রা। তবে জোয়ারে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালায় আবারো নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের বর্ষা এখনো শুরু না হতেই নদীতে পানির স্রোতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ঈশানবালার লঞ্চঘাটের রাস্তাটি গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০ ফুট রাস্তা নদীর গর্বে বিলিন হয়ে গেছে। কৃষি জমির ফসল ও গাছগাছালি সহ সেখানের অনেক পরিবার ঘর-জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালায় কয়েকটি ওয়ার্ডে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস। পুরো বর্ষা না আসতেই ঈশানবালায় ভাঙন দেখা দেয়ায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাঙন কবলিত এলাকার মোঃ আব্বাছ সরদার বলেন, গতকয়েক দিনে প্রায় ৬০ ফুট রাস্তা নদীর গর্বে বিলিন হয়ে গেছে। এখান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসা যাওয়া করে। জরুরীভাবে ভাঙন ঠেকাতে হবে, নাহয় ঈশানবালা বাজারও নদীগর্ভে চলে যাবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রতন, মোঃ কালা বেপারী, জানান নদীর পানি বেড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। আমাদের প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষি জমি নদীতে চলে গেছে। গত কয়েকদিনে জরুরীভাবে সরকার ড্যাম্পিং করে অধিকাংশ জিও ব্যাগ পাড়ে ফেলতে হবে। না হয় হারিয়ে যাবে নীলকমল ঈশানবালা বাজার। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন। হুমকির মুখে ঐ এলাকার কয়েক হাজার পরিবার। তবে মোঃ শাহাজান গোলদার এর বাড়ি এখন নদীতে চলেগেছে। পুরো বর্ষা আসলে নদীতে চলে যাবে কয়েকেটি বাড়ী ও মানুষের কয়েক একর ফসলি কৃষি জমি। তাই এখনি ব্যাবস্থা নেওয়া দরকার।

এদিকে নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির শিকদার চাঁদপুর সময়কে জানান, ‘ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের যথেষ্ট আন্তরিকতা রয়েছে। তবে এবার পুরো বর্ষা না আসতেই ইউনিয়নে মেঘনার ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেকের ঘরবাড়ী রাস্তাঘাট কৃষি জমি মেঘনায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহীর মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য অমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আমি আসাকরি হাইমচকে রক্ষা করতে জরুরীভাবে ব্যাবস্থা নিবে সরকার।

প্রতিবেদক: এমকে এরশাদ/
২৫ জুন ২০২৬