দীর্ঘ আট বছর পর চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে সংসদ সদস্য মানিক
আট বছর পর অবশেষে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের গাছতলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের শুভ সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, আজ আমরা চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সাইনবোর্ড স্থাপন করতে পেরেছি। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছেন। এখনও কিছু প্রশাসনিক কাজ বাকি রয়েছে। এখানে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সেসব কাজও সম্পন্ন হবে বলে আমি আশা করি। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই ডা. হারুন সাহেবকে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আমি যখনই ঢাকায় গিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, এমন একজন প্রকল্প পরিচালক পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। আমি তাকে বলব, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন এবং যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তারা যেন যথাযথভাবে তাদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পান, সে বিষয়েও বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন।
এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ করে বলেন, কারও জমি নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে সরাসরি আমাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কোনো দুষ্টু বা অসাধু মানুষের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হবেন না। আমি মনে করি, এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় বাগাদী ইউনিয়ন অত্যন্ত ভাগ্যবান। এখানে এক পাশে রয়েছে মেরিন একাডেমি, অন্য পাশে নান্দনিক হাসপাতাল, আর এখন মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ হচ্ছে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এলাকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এটি আপনাদের জন্য একটি সুখবর এবং আপনারাই এর সবচেয়ে বেশি সুফল ভোগ করবেন। এখানে যারা কাজ করতে আসবেন, তারা যেন আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা পান।
তিনি বলেন, যদি জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ তার প্রাপ্য অর্থ না পান, তাহলে আমার কাছে আসবেন। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে চিন্তা না করে বড় পরিসরে ভাবুন। শুধু মেডিকেল কলেজ নয়, এর আশপাশে যাদের জমি রয়েছে, তারাও বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠবে, যার সুফল এলাকাবাসী ভোগ করবেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসবে। আমাদের খুব কাছেই লক্ষ্মীপুর, রায়পুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা রয়েছে। হাসপাতালটি যদি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়, আমরা চেষ্টা করব এখানে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং দক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে ভালো সেবা প্রদান করতে। তখন এ এলাকায় হোটেল, খাবারের ব্যবস্থা, থাকার স্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠবে। আমি সবাইকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি চাই, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হোক এবং যার যার প্রাপ্য অর্থ সবাই যথাসময়ে বুঝে পাক।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) ও ভাইস প্রিন্সিপাল এবং প্রকল্প পরিচালক ডা. হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।
ডা. সৈয়দ আহম্মেদ কাজলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনিন, সিভিল সার্জন ডা. নূরে আলম দ্বীন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহম্মেদ টিটু, চাঁদপুর বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোবারক হোসেন চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. এন. জামিউল হিকমাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লখ্য, ২০১৮ সালে অনুমোদন পাওয়া মেডিকেল কলেজটিতে ২০১৯ সাল থেকে পাঠদান শুরু হয়। এরপর থেকে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলা ও একটি ভাড়া বাসায় কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। বর্তমানে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
স্টাফ করেসপন্ডেট/
১২ জুলাই ২০২৬