মতলবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা ও সুরকি খসে পড়ায় রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের একাধিক স্থানে ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খসে পড়ছে পলেস্তারা, সিমেন্ট ও সুরকি। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। রোগীর চাপ বেশি থাকায় প্রায়ই শয্যা সংকট দেখা দেয় এবং অনেক রোগীকে মেঝেতে অবস্থান করতে হয়।

হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ছাদে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থান থেকে নিয়মিত পলেস্তারা ও সুরকি খসে পড়ছে। ফলে অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের রোগীরা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। তবে প্রয়োজনের তাগিদে সেখানে যাতায়াত করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের।

মতলব উত্তর উপজেলার মধ্য ইসলামাবাদ গ্রামের স্বপ্না বেগম বলেন, পাঁচ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। পুরো সময়ই ছাদের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে। তিনি বলেন, সিঁড়ির মুখে ছাদের ফাটল থেকে প্রায়ই বড় বড় সুরকির টুকরা পড়ে। এমন পরিবেশে হাসপাতালে থাকা নিরাপদ নয়।

মতলব পৌরসভার বরদিয়া এলাকার রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, মানুষ হাসপাতালে আসে সুস্থ হওয়ার আশায়, কিন্তু এখানে থাকতে হচ্ছে ভয় নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও নেই বা অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

রোগীর স্বজন টরকি গ্রামের রাবেয়া আক্তার জানান, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করার সময়ও বারবার ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। কারণ, কখন পলেস্তারা খসে পড়ে—সেই আশঙ্কা ছিল।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব কিশোর বণিক বলেন, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্টের অংশ খসে পড়ছে। জনসাধারণকে সতর্ক করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কীকরণ নোটিশ টাঙানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও রয়েছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম বলেন, হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি তার জানা আছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জানানো হবে।
সূত্র: ইত্তেফাক

নিউজ ডেস্ক/
২৬ জুলাই ২০২৬