Home / শীর্ষ সংবাদ / ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন শুরু, চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে
vitamin-
ফাইল ছবি

ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন শুরু, চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে

সারা দেশে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র, যেমন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলার জন্য আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিটি যোগ্য শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

সিভিল সার্জন আরও জানান, জেলার সকল উপযুক্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা এ কার্যক্রম সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে তাদের খুঁজে বের করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘বাদপড়া শিশু অনুসন্ধান কার্যক্রম’ পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রমের আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতকৃত ওয়ার্ড ম্যাপ অনুযায়ী প্রতিটি সাব-ব্লকে প্রতিদিন দুটি বিশেষ দল সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করবে। প্রতিটি দলে দুইজন করে মাঠকর্মী থাকবেন। তারা প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন বাদপড়া শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন। চার দিনের মধ্যে পুরো ওয়ার্ডের অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা গেলে কোনো শিশু এ কার্যক্রম থেকে বাদ পড়বে না এবং ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।

স্টাফ করেসপন্ডেট/ ২৮ জুন ২০২৬