বিয়ের হলুদে গিয়ে বেঁচে গেলো রামিম, আগুন কেড়ে নিলো মা-বাবা, বোনকে

‘এখনও ভয়ে বুক কাঁপছে। মনে হচ্ছে দাউ দাউ করে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, পিছু ধাওয়া করছে। শত শত মানুষ আগুন আগুন চিৎকার করে দিগ্বিদিক ছুটছে। প্রাণ বাঁচাতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের দিকে দৌড়াতে থাকি। বারবার কোলের শিশুটির নিষ্পাপ মুখখানা দেখছিলাম আবার ভাবছিলাম সবাইকে রক্ষা করতে পারব তো। ওই দৃশ্য জীবনেও ভুলব না।’

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার চুড়িহাট্টার নন্দকুমার দত্ত রোডের ১৬/১ নম্বর বাড়ির ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলম স্ত্রী, পাঁচ বছরের মেয়ে ও কোলের শিশুকে নিয়ে রাত ৪টায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এভাবেই তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

রাত ৩টার সময় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিলে ধীরে ধীরে চুড়িহাট্টা এলাকার ঘরছাড়া মানুষ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করায় রাস্তাঘাট তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাস্তাঘাটে তখন বিভিন্ন কেমিক্যালের দানা, অগ্নিনির্বাপণের সময় রাস্তা পড়ে থাকা পানি আর কালো ধোয়া। এমন অবস্থার মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরা বাড়ি ফিরতে শুরু করে।

রাত পৌনে ৪টার দিকে একে একে অগ্নিদগ্ধ হয়ে করুণ মৃত্যুর শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের মরদেহ বের করে মর্গে পাঠাতে থাকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। হীরা নামে এক যুবক অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তার খালাত বোন, তার স্বামী ও তাদের এক সন্তানকে খুঁজতে থাকেন।

তিনি জানান, তার খালাত বোন সোনিয়া স্বামী মিঠু, ছেলে রামিম ও মেয়ে শাহরিনকে নিয়ে চুড়িহাট্টার ঘটনাস্থলের অদূরে কাটারা কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের হলুদের দাওয়াত খেতে আসছিলেন। রিকশাযোগে আসার পথে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।

এ সময় রামিম লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। আরেকজনের মোবাইল থেকে ফোন করে রামিম জানায়, সে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি। বাবা, মা ও বোনের খবর জানে না। খবর পেয়ে পাগলের মতো ছুটে আসে সে। এসে জানতে পারে ওরা তিনজনই মারা গেছে। কিন্তু তখনও মরদেহ দেখেনি।

তবে পুলিশ জানায়, সোনিয়া, মিঠু ও শাহরিন নামে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাত যত বাড়ছিল ততই নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের ভিড় বাড়ছিল।

বার্তা কক্ষ
২১ ফেব্রুয়ারি,২০১৯

Share