২ বছরেও শেষ হয়নি ফরিদগঞ্জ–কালীরবাজার সড়ক, বিল উত্তোলন পৌনে দুই কোটি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কালীরবাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটির উন্নয়নকাজ গত দুই বছর ধরে থমকে রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের সরকারি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, ঢিলেঢালা ভাব ও প্রতারণামূলক কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে।
সামান্য কিছু কালভার্ট ও সম্প্রসারণের কাজ দেখিয়ে ইতিমধ্যে রাজস্ব খাত থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়া হলেও প্রধান সড়কের কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি ও ধুলোবালির চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে উপজেলাটির প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (RCIP-AF2)’-এর অধীনে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় কালীরবাজার, চরদুঃখিয়া পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়নের সাথে জেলা ও উপজেলা সদরের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কজুড়ে কালভার্ট নির্মাণের ভাঙাচোরা অংশ ও খুঁড়ে রাখা গর্তের তান্ডব। ধুলোবালি ও খানাখন্দে একাকার হয়ে পড়েছে পুরো রুট।
দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মকবুল আহমেদসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর ধরে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রেখে মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এলজিইডির চোখের সামনে কাজ ফেলে ঠিকাদার বিল তুলে নিচ্ছেন অথচ প্রতিকার নেই। অবিলম্বে এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সড়ক উদ্ধার করা জরুরি।
ঠিকাদারের গড়িমসির বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠিকাদার রেজাউল করিম কাজের কথা বলে প্রতিনিয়ত নাটক করছেন। প্রতি সপ্তাহেই কাজ শুরু করব বলে আশ্বাস দেন কিন্তু বাস্তবে তা দেখা মেলে না। তিনি আরো জানান, গত কাল ঠিকাদার সাইটে লেবার পাঠিয়েছেন। দু্রুতসময়ের মধ্যে কাজ শুরুর জন্য সর্বোচ্চ তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার রেজাউল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দীর্ঘ বিলম্বের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, আজ শনিবার কাজের লোক পাঠানো হয়েছে। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী বাড়ানো অতিরিক্ত সময়ের ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করা যাবে বলে দাবি করেন।
তবে দুই বছর ধরে শতভাগ কাজ আটকে রেখে আরও আট মাস সময় চাওয়ার ঠিকাদারি চক্রের এমন কৌশলে ক্ষুব্ধ এলজিইডি ও সাধারণ মানুষ। এলাকার ভুক্তভোগীদের একটাই দাবি-উত্তোলিত অর্থ ও কাজের অগ্রগতির সরেজমিন অডিট করে এ চুক্তি বাতিল ও দ্রুত নতুন উদ্যোমে সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১২ অক্টোবর ২০২৬