Home / উপজেলা সংবাদ / ফরিদগঞ্জ / ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িঘরে হামলা, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৪
প্রবাসীর

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িঘরে হামলা, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৪

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পৈতৃক সম্পত্তির গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বসতবাড়িতে নারকীয় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ৩০ থেকে ৪০ জনের সশস্ত্র একটি দল হামলা চালিয়ে প্রবাসীর বসতঘর লন্ডভন্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি নগদ বৈদেশিক মুদ্রা, আইফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ পাসপোর্ট লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায়, উপজেলার ৩ নম্বর সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের সুবিদপুর হাজী বাড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হামলায় আহতরা হলেন-মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী শামীম খান (২৫), তাঁর স্ত্রী ফারজানা আক্তার (১৮), ভাই নজরুল ইসলাম (৩২) এবং সাত বছর বয়সী শিশু ভাগনি সুমাইয়া আক্তার।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরেন শামীম খান। ঘটনার দিন নিজ পৈতৃক ভিটার গাছের ডাল কাটতে গেলে চাচাতো ভাই তাজুল ইসলাম বাধা দেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় রাজা মিয়া সেখানে উপস্থিত হলে শামীম এটিকে নিজেদের ‘পারিবারিক বিষয়’ উল্লেখ করে অন্য কাউকে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজা মিয়ার ছেলে ফজলে রাব্বি প্রবাসীর মা আনোয়ারা বেগমকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। পরে বিকেলে বিষয়টি নিয়ে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শামীম খানের অভিযোগ, এই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় ফজলে রাব্বি, তার ভাই রিহাব ও বাবা রাজা মিয়ার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি ঘরে তাণ্ডব চালায়। এসময় ঘরের তিনটি স্টিলের আলমারি, ফ্রিজ, খাট, ওয়ারড্রোব ও কেবিনেটসহ সমস্ত আসবাবপত্র কুপিয়ে ও পিটিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

শামীম খান আরও দাবি করেন, তছনছ করার সময় হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ ৬০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা), একটি দামি ‘আইফোন ১৭’ সহ মোট ৭টি স্মার্টফোন, স্বর্ণালঙ্কার এবং মালয়েশিয়ার ভিসাসহ তাঁর মূল পাসপোর্টটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ফজলে রাব্বির মা তাছলিমা। উল্টো দাবি করে তিনি বলেন, “তারাই আমার ছেলেকে মারধর করেছে। মামলা থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের ঘর নিজেরাই ভাঙচুর করে নাটক সাজাচ্ছে।”

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “ঘটনায় আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২২ জুলাই ২০২৬