ফরিদগঞ্জে দু’সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের লাউতলি গ্রামে দুই সন্তানের জননী লাকি আক্তার (২৮)এর আত্মহত্যা নাকি রহস্যজনক মৃত্যু। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয় নানান রকম কথোপকথন।

গৃহবধূর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লাউতলি গ্রামে মিজি বাড়ি থেকে লাকি আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করেন।

নিহত লিকি আক্তার লাউতলি মিজি বাড়ির বাক প্রতিবন্ধী (বোবা) নুরুন্নবীরর স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। তারা বাবার বাড়ি ঘোড়াশাল কোজ বাড়ির সে শফিকের মেয়ে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ আলম বলেন, গত প্রায় ১০ বছর পূর্বে লাকী আক্তার ও বোবা মো. নুরুন্নবীর দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দু’টি সন্তান রয়েছে। স্বামী মো. নুরুন্নবী নিজে একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সংসারে নানান কলহ দেখা দেয়। পারিবারিক বিরোধের জেরে লাকী আক্তার বিভিন্ন সময়ে স্বামী ও শ্বশুর-পরিবারের লোকজনের মারধরের শিকার হতেন।

সর্বশেষ গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ঝাটি হয়। আজ দুপুর ১২ টা নাগাদ পরিবারের লোকজন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়াবস্থায় তার শিশু মেয়ে তাকে ঝুলতে দেখে ডাকচিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়।

এরপর থেকে লাকি আক্তারের শ্বশুর ইউসুফ ও শাশুড়ি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এতেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয় লোকজন বলেছেন, হয়তো পরিবারের লোকজন মারধরের সময় সে মারা গিয়েছে। এরপর তারা আত্মহত্যার নাটক তৈরি করছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, লাকী আক্তার নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তি আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান/
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬