চাঁদপুর পৌরসভার পুরান বাজার এলাকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক ও অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে পৌর কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান সমাজকর্মী, উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক তানিয়া ইশতিয়াক খান।
কেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, কাউন্সিলর পদ কোনো ক্ষমতার আসন নয়; এটি জনগণের সেবা করার একটি দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে পুরান বাজারের মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের সুখ-দুঃখ ও বিভিন্ন সমস্যা কাছ থেকে দেখেছেন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় কাজ করে আসছেন বলেও জানান তিনি।
নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, ‘‘আমার পরিচয় আমার ভালো কাজ। আমি পুরান বাজারের মানুষ। এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।’’
ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতা ও ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে করোনাকালে চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। একই সময়ে নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন ‘বিজয়ী’র মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
নির্বাচিত হলে পুরান বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে বাজার এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন, যানজট কমাতে সুনির্দিষ্ট পার্কিং ও পণ্য ওঠানামার জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা এবং বাজারের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সরকারি সেবা, লাইসেন্স ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
পুরান বাজারের মেঘনা নদীর পাড়কে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। নদীর তীরবর্তী এলাকায় হাঁটার পথ, বসার স্থান, আলোকসজ্জা ও বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করা গেলে এটি চাঁদপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের জন্য খাবারের দোকান, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান।
পুরান বাজারের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করার কথা জানিয়েছেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। শিক্ষা উপকরণ সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক পাঠাগার ও ডিজিটাল সুবিধা তৈরির পরিকল্পনার কথাও বলেন।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যাম্পের ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দিতে চান তিনি। ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ও চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা, বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কথা জানান।
নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান। তাঁর মতে, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, নারীদের দক্ষ করে তুলতে হবে। এজন্য সেলাই, হস্তশিল্প, বুটিক, ব্লক-বাটিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরান বাজারের তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। মাদকপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থানীয় জনগণ, তরুণ সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
ইতোমধ্যে যেসব কাজ করেছেন-
পুরান বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তানিয়া ইশতিয়াক খান বেকারত্ব, নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং তরুণদের মাদকের ঝুঁকিকে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এসব সমস্যা নিয়ে শুধু নির্বাচনের সময় কথা বললে হবে না। তাই ২০২০ সাল থেকেই নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসা ও চক্ষু ক্যাম্প, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া রিকশাচালক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় সেলাই মেশিন, ভ্যানগাড়ি, রেইনকোট, শীতবস্ত্র ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান।
‘নির্বাচনের জন্য নয়, দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের পাশে আছি’
অন্য প্রার্থীদের তুলনায় কেন তাঁকে ভোট দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তানিয়া ইশতিয়াক খান কোনো ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা না তুলে নিজের দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমি নির্বাচনের জন্য নয়, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছি। আমার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। দল-মত নির্বিশেষে মানুষের জন্য কাজ করাই আমার লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে সেই কাজকে আরও সংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিতে চাই।’’
তাঁর মতে, একজন কাউন্সিলরের প্রধান দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা। এ কারণে নির্বাচিত হলে নিয়মিতভাবে পাড়া-মহল্লায় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং তাদের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সবশেষে পুরান বাজারকে নিয়ে নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, ‘‘আমার নাম এই বলেই খ্যাত হোক—আমি পুরান বাজারের লোক।’’ মাটির প্রতি ভালোবাসা ও এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে শক্তি হিসেবে নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও ব্যবসাবান্ধব পুরান বাজার গড়ে তুলতে চান বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পুরান বাজারের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক ও উন্নত এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এলাকার মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur