রাজনীতি

চাঁদপুরের মানিকসহ পদ হারাচ্ছেন বিএনপির ৫০ নেতা

তৃণমূলের পদ হারাচ্ছেন বিএনপির ৫০ নেতা এ ব্যাপারে কঠোর খালেদা জিয়া। দলে এক নেতার এক পদ কার্যকরে এবার কঠোর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

এ কারণে তৃণমূলের পদ হারাচ্ছেন দলটির অর্ধশতাধিক নেতা। এক নেতার এক পদ রেখে বাকি পদ ছেড়ে দিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এতে করে ঘোষিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যারা ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক পদ পেয়েছেন, তারা জেলা-মহানগর ও উপজেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে থাকতে পারবেন না। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না বলে জানা গেছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৮ আগস্ট রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নতুন স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এক নেতার এক পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের অন্তত ৪৮ নেতা বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন।

তারা এবার তৃণমূলের পদ হারাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এসব নেতার কাছে দুয়েক দিনের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন চিঠি পাঠাবেন বলে জানা গেছে।

এক নেতার এক পদ কার্যকর হওয়ায় পটুয়াখালীর আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সিরাজগঞ্জের ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রাজশাহী মহানগরের মিজানুর রহমান মিনু, বরিশাল মহানগরের মজিবর রহমান সরোয়ার, ফরিদপুরের শাহজাদা মিয়া, চাঁদপুরের শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, লক্ষ্মীপুরের আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নোয়াখালীর সেনবাগের জয়নুল আবদিন ফারুক, চট্টগ্রাম দেিণর শাহজাহান চৌধুরী, সুনামগঞ্জের কলিম উদ্দিন মিলন, হবিগঞ্জের জিকে গউছ, কিশোরগঞ্জের অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ঝিনাইদহের মশিউর রহমান, ময়মনসিংহ দেিণর একেএম মোশাররফ হোসেন, জয়পুরহাটের মোজাহার হোসেন প্রধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, নাটোরের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, লালমনিরহাটের অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, নীলফামারীর শামসুজ্জামান, খুলনা মহানগরের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মাগুরার অ্যাডভোকেট নিতাই রায়চৌধুরী, কুষ্টিয়ার সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও অধ্য সোহরাব উদ্দিন, গাজীপুরের ফজলুল হক মিলন, ঢাকা জেলার আবদুল মান্নান ও আমানউল্লাহ আমান, নারায়ণগঞ্জের তৈমুর আলম খন্দকার, নরসিংদীর খায়রুল কবির খোকন, টাঙ্গাইলের অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, মানিকগঞ্জের আফরোজা খানম রীতা, ইঞ্জি. মইনুল ইসলাম শান্ত, খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম উত্তরের আসলাম চৌধুরী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ হারাচ্ছেন।

তবে চিঠি পাওয়ার আগেই গত ১৮ আগস্ট বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মো. শাহজাহান সিরাজগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলার সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলীয় চেয়ারপারসনের কাছে পত্র দিয়েছেন।

একই দিন অব্যাহতির ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্নতা। ঢাকা জেলা বিএনপির শীর্ষ পদ পাওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-পরিবার ও পরিকল্পনা সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিন।

এর আগে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার আগে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও যুবদলের সভাপতির পদ ছাড়তে খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যাগপত্র দেন বলে জানা গেছে।

এদিকে কেউ স্বেচ্ছায় এক পদ রেখে বাকিগুলো না ছাড়লে তাদের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। তবে জেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রে নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে থাকলে তাতে ওই নেতার কোনো সমস্যা নেই। দুয়েক দিনের মধ্যেই আরও বেশ কয়েকজন নেতার স্বেচ্ছায় জেলার নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এক পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার ব্যাপারে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে।

গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, দলের স্থগিত থাকা তৃণমূলের পুনর্গঠনে কাজ শুরু করতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে দায়িত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এ নিয়ে তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কাজও করেন।

এ সময় ৪৮ জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে চিহ্নিত করা হয়, যারা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। এ তালিকা দুয়েক দিনের মধ্যেই খালেদা জিয়ার কাছে জমা দেবেন মো. শাহজাহান।

ওই তালিকা ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন জেলা নেতাদের কাছে চিঠি পাঠাবেন। চিঠিতে এক পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। চিঠি পাওয়ার পর যদি কেউ স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়েন, তাদের ব্যাপারে কেন্দ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। এর পরই পুরোদমে জেলাপর্যায়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সূত্রমতে, জেলা, মহানগর ও থানার নেতৃত্বের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনেও একাধিক পদে রয়েছেন বেশকিছু নেতা। এ প্রসঙ্গে মো. শাহজাহান জানান, দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের কারণে জেলা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।

এখন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তাই জেলা কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শিগগিরই শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, অনেকেই জেলার নেতৃত্বেও আছেন আবার কেন্দ্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

যেহেতু এক নেতার এক পদ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে, তাই জেলা নেতাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক পদের বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই জেলা কমিটি পুনর্গঠনে কাজ করতে সুবিধা (উৎস-আমাদের সময়)

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১২:১৭ পি,এম ২২ আগস্ট ২০১৬, সোমবার

Share