চাঁদপুরের কৃতি সন্তান অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল্লহর ইন্তেকাল
চাঁদপুরের কৃতি সন্তান, একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল্লহ গত রোববার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন| (ইন্নাল্লিাহে—-রাজেউন)| তার বয়স হয়েছিল ৮০বছর| তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক ছেলে রেখে গেছেন| রাজধানীর শুক্রাবাদ মসজিদে জানাজার পর চাঁদপুরে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।
মো. হাবিবুল্লাহ চাঁদপুরের মোহনপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাবি এস এম হলের ছাত্র মো. হাবিবুল্লাহ ইপিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ফরিদপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বর্ণাঢ্য সরকারি চাকরিজীবন শুরু করেন। একাত্তরে শরীয়তপুরের নড়িয়া থানা ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে রাতের আঁধারে যোগাযোগ শুরু করেন। তার কারনে নড়িয়া থানা এলাকা রাতের বলা সম্পূর্ণ মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকতো। থানা মুক্তিবাহিনী যেদিন নড়িয়া থানা অক্রমন করে এবং অস্ত্র নিয়ে যায় সেদিন থানা ম্যাজিস্ট্রেটে মো. হাবিবুল্লাহকে মুক্তিবাহিনী আগেই নিরাপদ জারগায় সরিয়ে নেয়। তাঁর লাইসেন্সকৃত দুটি রাইফেল থানা থেকে নিয়ে যেতে মুক্তিবাহিনীকে আগেই জানিয়ে দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিবাহিনী সেই অস্ত্র দুটি তাঁকে ফিরিয়ে দেয়।
তিনি চাকুরি জীবনে ময়মনসিংহ ও মুন্সীগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক, পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সচিব ভূমি বিভাগ ও মিল্কভিটার ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্বপালন করেন। সরকারিভাবে ইটালিতে উচ্চতর কোর্স সমাপ্তির পর ইটালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়। তাঁর এক মেয়ে ইশরাত নাসিমা হাবিব নোয়াকালির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং আরেক মেয়ে ইশরাত তানিয়া হাবিব পুবালি ব্যাংকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
৮ জুন ২০২৬