হাইমচরে শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় মামলা, আসামি পলাতক
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার জালিয়ারচর গ্রামে স্কুল যাওয়ার পথে এক
বৃদ্ধ কর্তৃক ওই শিশুকে শ্লীলতাহানির এই ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় জালিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। গত ৭ জুন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় শিশুটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে জালিয়ারচর এলাকার জনৈক আজম আলী বেপারীর বাড়ির পিছনের বাগানের সরু রাস্তায় পৌঁছালে একই এলাকার ইদ্রিছ হাওলাদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধ তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে বিবাদী ইদ্রিছ হাওলাদার শিশুটির মুখ চেপে ধরে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে।
এ সময় স্থানীয় এক নারী সাক্ষী ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখে চিৎকার দিলে অভিযুক্ত ইদ্রিছ হাওলাদার ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই নারী ভিকটিমের পরিবারকে বিষয়টি জানালে ভিকটিমের মা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিশুকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং বিস্তারিত শোনেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি পারিবারিকভাবে ও সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। গত ৭ জুন বিকেলে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের কয়েকজন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা এবং ৯নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারীসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ভিকটিমের এক আত্মীয়ের বাড়িতে সালিশ বৈঠক ডাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, উক্ত সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে অভিযুক্ত ইদ্রিছ হাওলাদারকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা শেষে ভিকটিমের মা মালঞ্চা বেগম বাদী হয়ে হাইমচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই বিষয়ে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শিশু শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।”
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসেন (আসিফ)
৮ জুন ২০২৬