চাঁদপুর সদরে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলায় অরক্ষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

চাঁদপুরে ভূমি নিয়ে মামলা সংক্রান্ত কারণে আদালতের নির্দেশে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সীমানা প্রাচীরটি (বাউন্ডারি দেয়াল) ভেঙ্গে ফেলা হয়। এর ফলে ৫শতাধিক শিক্ষার্থীর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একেবারে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এতে করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের বালিয়া কাজির বাজার দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। গত ২৩ জুন আদালতের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মাদ্রাসার সীমা প্রাচীরর পশ্চিম দিকের অংশটি ভেঙে ফেলা হয়। ২৯ জুন সোমবার সকালে সরজমিনে গিয়ে বিভিন্ন মহলের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা যায়।

আরও পড়ুন>>>  চাঁদপুরে সীমানা প্রাচীর ভাঙায় অরক্ষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিবাদে মানববন্ধন

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ে এই সীমানা প্রাচীরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ আইনি সমস্যার কারণে কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই পশ্চিম পাশের সীমানা দেয়ালটি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা মহামান্য আদালত এবং প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সুবিচার দাবি করছি।

মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ২০২৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত সরকারি বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদ্রাসাটি বাউন্ডারি দেয়াল এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় মহামান্য আদালতে নির্দেশে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি মামলার রায়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার বাদী মোস্তফা কারীর বাসা মাদ্রাসার পাশেই। তিনি মাদ্রাসার বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা জায়গাটি তাদের বলে দাবি করছেন। অথচ এটি সম্পূর্ণ মাদ্রাসার নিজস্ব সম্পত্তি। শুধু তাই নয় পার্শ্ববর্তী মোস্তফা কারী জোরপূর্বক আমাদের মাদ্রাসার ওপর দিয়ে নিজের বাড়িতে বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছেন। যা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। এই তাদের সাথে যে কোন সময় শিক্ষার্থী বা শিক্ষকরা দুর্ঘটনা স্বীকার হতে পারেন। আমরা বহুবার তাকে এই বৈদ্যুতিক তারের সংযোগটি সরিয়ে নিতে বলেছি। তিনি আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করছেন না। আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ সরিয়ে নিতে এবং মাদ্রাসার জায়গায় সরকারি অর্থে নির্মিত দেয়ালটি পুনরায় স্থাপন করার জন্য প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবি করছি। পাশাপাশি এই অবিচার বন্ধে আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে এই ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ এবং এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি সুষ্ঠু ও সমাধানের মাধ্যমে মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীনটি যাতে পুনঃনির্মাণ করা হয়।

উল্লেখ্য: ১৯৮৫ সালে মরহুম হাজী আব্দুল রশিদ কাজীর দান করা ৪২ শতাংশ ২৫ পয়েন্ট জমির উপর বালিয়া কাজির বাজার দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৫৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে। তাদের পাঠদানে ১৮ জন শিক্ষক নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান কাজী।

নিজস্ব প্রতিবেদক/ ২৯ জুন ২০২৬